আজকের দিনেগ্রীন রুম

‘ধুরন্ধর’-কে টেক্কা দেওয়ার চেষ্টা, প্রথম দিনে মাত্র ২২টি টিকিট বিক্রি পাকিস্তানের ছবির!

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,নিউজ ডেস্ক:- পাকিস্তানের সিনেমা মহলে হইচই ফেলে দেওয়া ছবি ‘মেরা লিয়ারি’ বক্স অফিসে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। ভারতের ব্লকবাস্টার ‘ধুরন্ধর’-এর জবাব দিতে গিয়ে নিজেই ধরাশায়ী হলো এই ছবি। বিপুল প্রচার আর হাইপ সত্ত্বেও মুক্তির প্রথম দিনেই দর্শক খরায় ভুগেছে সিনেমাটি। পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক ছিল যে, মাত্র ২২টি টিকিট বিক্রি হওয়ায় মুক্তির দিনেই অনেক প্রেক্ষাগৃহ থেকে ছবিটি নামিয়ে নিতে বাধ্য হন হলমালিকরা।

‘ধুরন্ধর’ বনাম ‘মেরা লিয়ারি’: প্রত্যাশা ও বাস্তব

পাকিস্তানে ভারতের ‘ধুরন্ধর’ এবং ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ নিষিদ্ধ হলেও পাইরেসি মারফত তা ওখানকার দর্শকদের মনে জায়গা করে নিয়েছিল। রণবীর সিং অভিনীত সেই ছবিতে লিয়ারির গ্যাংস্টার ও সন্ত্রাস দমনের গল্প দেখানো হয়। তারই পালটা জবাব হিসেবে ৮ মে ২০২৬-এ মুক্তি দেওয়া হয়েছিল পাকিস্তানের নিজস্ব ছবি ‘মেরা লিয়ারি’। কিন্তু জবাব দেওয়া তো দূর, প্রথম দিনেই ছবিটির কপালে জুটল ‘মহাফ্লপ’-এর তকমা।

সিনেমা নাকি ২ ঘণ্টার টিভি নাটক? খেদ দর্শকদের

ছবিটি দেখে চরম হতাশা প্রকাশ করেছেন দর্শকরা। সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে। এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে এক দর্শক লিখেছেন, “ক্যামেরার কাজ আর অভিনয় ভালো হলেও, গল্প বলার ধরন একদম একঘেয়ে। পরিচালক ভুলেই গেছেন যে তিনি সিনেমা বানাচ্ছেন, নাকি টিভি নাটক!”

৯ কোটির বাজেট গেল কোথায়? দানা বাঁধছে বিতর্ক

সিন্ধ সরকারের ৯ কোটি টাকার আর্থিক অনুদানে তৈরি হয়েছিল ‘মেরা লিয়ারি’। কিন্তু ছবির মান দেখে ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ। সোশ্যাল মিডিয়ায় কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, সরকারি এত টাকা অনুদান পাওয়ার পরও ছবির মান কেন এত সাধারণ? একজনের কটাক্ষ, “ছবিটা দেখে মনে হচ্ছে কোনো বেসমেন্টে বসে বানানো হয়েছে! সব টাকা গেল কোথায়?”

লিয়ারির মেয়েদের লড়াই: বিষয়বস্তু ভালো, সংযোগে খামতি

ছবির মূল গল্প ছিল লিয়ারি এলাকার মেয়েদের রক্ষণশীল সমাজের বিরুদ্ধে লড়াই এবং নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার সংগ্রাম। বিষয়বস্তু যথেষ্ট শক্তিশালী ও সংবেদনশীল হওয়া সত্ত্বেও দুর্বল চিত্রনাট্যের কারণে তা সাধারণ দর্শকদের মন ছুঁতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।

তারকার হাট, তাও শূন্য থলি

আবু আলিহা পরিচালিত এই ছবিতে আয়েশা ওমর, দনানির মোবিন, সামিয়া মুমতাজের মতো পাকিস্তানের অত্যন্ত পরিচিত ও জনপ্রিয় মুখরা অভিনয় করেছিলেন। কিন্তু তারকাদের এই উজ্জ্বল উপস্থিতিও হলমুখী করতে পারেনি দর্শকদের। মাত্র ২২টি টিকিট বিক্রি হওয়ার এই ঘটনাকে পাকিস্তানের চলচ্চিত্র ইতিহাসের অন্যতম নিকৃষ্ট এবং হতাশাজনক ওপেনিং হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *