তোলাবাজি থেকে যৌনহেনস্তা: ১৩ দিনের পুলিশি হেফাজতে স্বরূপ বিশ্বাস
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা:- তোলাবাজি ও শ্লীলতাহানির একাধিক অভিযোগে বৃহস্পতিবার রাতে গ্রেপ্তার হলেন ফেডারেশনের প্রাক্তন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস। শুক্রবার আলিপুর আদালত তাঁকে ১৮ জুন পর্যন্ত, অর্থাৎ ১৩ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। শুনানি চলাকালীন এজলাসে তুমুল হই হট্টগোল হয়।
প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ভাই স্বরূপের বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত ২২ লক্ষ টাকা তোলাবাজির অভিযোগ উঠেছে। কাদের থেকে তিনি টাকা তুলেছেন, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। সরকারি আইনজীবীর দাবি, স্বরূপ প্রভাবশালী প্রাক্তন মন্ত্রীর ভাই হওয়ায় তদন্তে প্রভাব খাটাতে পারেন। পালটা স্বরূপের আইনজীবী জানান, তাঁর কোনও সরকারি ভূমিকা নেই।
এক মেকআপ আর্টিস্টের অভিযোগের ভিত্তিতে নিউ আলিপুর থানা তাঁকে গ্রেপ্তার করে। অভিযোগকারিনীর দাবি, দু’বছর ধরে কাজ না পেয়ে স্বরূপের কাছে গেলে টাকা চাওয়া হয় এবং টাকা না দিলে কাজ না দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। পরে ফের কাজের খোঁজে যোগাযোগ করলে তাঁকে শ্লীলতাহানি করা হয়। এমনকি গত মার্চে স্বরূপের দলবল অস্ত্র নিয়ে তাঁকে খুন করতে বাড়িতে চড়াও হয় বলেও অভিযোগ। গ্রেপ্তারির পর টলিপাড়ার একাংশ মুখ খুলতে শুরু করেছে। প্রতিবেশীদের অভিযোগ, ‘গোটা টালিগঞ্জজুড়ে তোলাবাজি করতেন স্বরূপ। সরকারে থাকার সুবাদে পুলিশও পদক্ষেপ করেনি।’ পরিচালক থেকে টেকনিশিয়ান—সব স্তরেই তাঁর একাধিপত্য কায়েম ছিল বলে অভিযোগ।
অভিনেতা-বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ বলেন, “ফেডারেশনের মাথায় বসে দিনের পর দিন দুর্নীতি চালিয়ে গেছেন স্বরূপ। ২০২১ সালে মুখ খোলায় আমাকে ব্যান করা হয়েছিল। টেকনিশিয়ানদের চাপ দিয়ে আমার বিরুদ্ধে মিছিল করানো হয়। পেটের ভাতে টান পড়ার ভয়ে অনেকে মুখ বুজে অত্যাচার সহ্য করেছেন।”
‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’-এর বিরুদ্ধে টলিপাড়ায় দীর্ঘদিনের ক্ষোভ এবার প্রকাশ্যে। তোলাবাজি, শ্লীলতাহানি থেকে খুনের চেষ্টা—ভুরি ভুরি অভিযোগে বিদ্ধ স্বরূপ বিশ্বাস আপাতত ১৩ দিন পুলিশি হেফাজতে। এই মামলার তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে টলিউড থেকে রাজনৈতিক মহল।
