State Congress-Mamata : ‘ওই জঞ্জাল আর যেন কংগ্রেসে না আসে’, মমতার ঘরওয়াপসি জল্পনায় ক্ষোভে ফুঁসছে প্রদেশ কংগ্রেস !
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নিউজ ডেস্ক:- মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কংগ্রেসে ফেরার জল্পনা তুঙ্গে উঠতেই প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিলেন একের পর এক কংগ্রেস নেতা। দিল্লিতে সনিয়া-রাহুলের সঙ্গে মমতা-অভিষেকের ঘন ঘন বৈঠক ঘিরে প্রশ্ন, রাজনৈতিকভাবে নিঃস্ব হয়ে কি ফের হাত ধরতে চাইছেন তৃণমূল নেত্রী? তবে প্রদেশ কংগ্রেস সাফ জানাচ্ছে, “ওই জঞ্জাল আর যেন কংগ্রেসে না আসে।”
বিধানসভা ভোটে বিপর্যয়ের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ১৫ বছরের রাজপাট শেষ। দলের রাশ হাতের বাইরে, নেতৃত্ব-কর্তৃত্ব কার্যত কর্পূরের মতো উবে গেছে। প্রশ্নের মুখে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকাও। আগে ইন্ডি জোটে মমতার সেই দাপট, কংগ্রেসকে লাগাতার আক্রমণ, রাহুল গান্ধীর নেতৃত্ব নিয়ে কটাক্ষ — আজ সবই অতীত।
এই পরিস্থিতিতে দিল্লি গিয়ে কখনও সনিয়া গান্ধীর সঙ্গে, কখনও রাহুল গান্ধীর সঙ্গে বৈঠক করছেন মমতা-অভিষেক। ফলে জোরালো হচ্ছে প্রশ্ন, মমতা কি কংগ্রেসে ফিরে আসতে পারেন?
প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরীর তোপ, “তৃণমূলের অবস্থা আপনারা দেখতে পারছেন। পুরো দল ছন্নছাড়া হয়ে যাচ্ছে। বড় বড় নেতারা পালিয়ে যাচ্ছেন। তৃণমূল ভয়ে রয়েছে। এতদিন কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে দেখা করার প্রয়োজন মনে হল না। এখন ওঁদের মনে হচ্ছে, এটা এখন করা উচিত।”
উত্তর দিনাজপুরের কংগ্রেস সভাপতি মোহিত সেনগুপ্ত আরও কড়া ভাষায় বলেন, “আমরা তীব্র বিরোধিতা করছি। আমরা কোনওমতে মেনে নেব না। আমরা চাই ওই জঞ্জাল আর যেন কংগ্রেসে না আসে। তৃণমূল কংগ্রেস এখন চলে যাচ্ছে। সেই জন্য এখন উনি সনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধীর পায়ে পড়ে গেছেন যে তাঁকে আবার কংগ্রেসে ফিরিয়ে নেওয়া হোক। এইসব মানুষ যদি কংগ্রেসে আসে, গ্রামবাংলার মানুষ আর কংগ্রেস করবে না।”
আরেক প্রাক্তন প্রদেশ সভাপতি প্রদীপ ভট্টাচার্যের মন্তব্য, “কখনও ভাবতে পেরেছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস পরাজিত হওয়ার ১ মাসের মধ্যে দলটা ভেঙে গুঁড়িয়ে তছনছ হয়ে যাবে! সময় কিন্তু চিহ্নিত করে দেয় রাজনীতিতে কোনদিকে চালিত হবে।”
একদিন কংগ্রেস ভেঙে তৃণমূল গড়েছিলেন মমতা। আজ তৃণমূল ভেঙে ছারখার। ক্ষমতায় থাকাকালীন কংগ্রেসকে লাগাতার নিশানা, রাহুলকে ব্যঙ্গ — সব পেরিয়ে এখন রাজনৈতিকভাবে সর্বহারা হয়েই কি মরিয়া হয়ে কংগ্রেসের হাত ধরতে চাইছেন মমতা?
যদিও তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের দাবি, মমতার কংগ্রেসে ফেরার সম্ভাবনা ভিত্তিহীন। তবে পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেসের সঙ্গে তৃণমূলের জোট হতে পারে।
ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি যেন। কংগ্রেস ভেঙে তৃণমূল গড়ে ক্ষমতার শীর্ষে ওঠা মমতা আজ দল সামলাতে হিমশিম। রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষায় দিল্লিতে দরজায় দরজায় ঘুরছেন, কিন্তু ঘরের লোকেরাই দরজা বন্ধ করতে চাইছেন। প্রদেশ কংগ্রেসের ক্ষোভ স্পষ্ট — “জঞ্জাল”কে আর দলে জায়গা দিতে নারাজ তারা। মমতার ঘরওয়াপসি জল্পনা শেষ পর্যন্ত কোথায় গড়ায়, সেটাই এখন দেখার।
