শিক্ষকদের বড় ধাক্কা সুপ্রিম কোর্টে! টেট পাশ না করলে দিতে হবে স্বেচ্ছাবসর
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নয়াদিল্লি : কর্মরত স্কুলশিক্ষকদের ‘টিচার্স এলিজিবিলিটি টেস্ট’ পাশ করা নিয়ে ২০২৫ সালের ঐতিহাসিক রায়ই বহাল রাখল দেশের শীর্ষ আদালত। তবে পুনর্বিবেচনা (Review) মামলার শুনানিতে লক্ষ লক্ষ কর্মরত শিক্ষকের জন্য কিছুটা সময় বাড়াল সুপ্রিম কোর্ট। আগে টেট পাশের ডেডলাইন ২০২৭ সালের ৩১ অগস্ট থাকলেও, শুক্রবার বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি মনমোহনের ডিভিশন বেঞ্চ তা আরও এক বছর বাড়িয়ে ২০২৮ সালের ৩১ অগস্ট করল।
রায়ের মূল নির্যাস: কার স্বস্তি, কার চিন্তা?
মামলার আইনজীবী ফিরদৌস শামিম জানান, আগের রায়ে বলা হয়েছিল ২০২৭-এর মধ্যে টেট পাশ না করলে শিক্ষকদের স্বেচ্ছাবসর (VRS) নিতে হবে। আদালতের নতুন নির্দেশে সেই সময়সীমা ১ বছর বাড়লেও, টেট পাশের বাধ্যবাধকতা কিন্তু অপরিবর্তিতই থাকছে। সুপ্রিম কোর্টের নতুন টেট গাইডলাইন:
- টেট পাশের নতুন ডেডলাইন: ৩১ অগস্ট, ২০২৮
- ছাড় পাবেন কারা: ২০৩০ সালের মধ্যে যাঁদের অবসরের বয়স হয়ে যাচ্ছে (প্রবীণ শিক্ষক)
- খাঁড়া ঝুলছে কাদের ওপর: ২০১১ সালের আগে বা পরে নিযুক্ত বাকি সমস্ত অপ্রশিক্ষিত শিক্ষক
২০১১-র আগের শিক্ষকদের কী হবে? ক্ষুব্ধ শিক্ষক সংগঠন
‘নিখিলবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি’-র সাধারণ সম্পাদক ধ্রুবশেখর মণ্ডল জানান, তাঁরা মূলত দুটি বিষয়ে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চেয়েছিলেন। ২০০৯ সালের শিক্ষার অধিকার আইন (RTE) মেনে পশ্চিমবঙ্গে ২০১১ সালের জুলাই থেকে টেট বাধ্যতামূলক হয়। তাই তাঁদের আর্জি ছিল, ২০১১-র আগে যাঁরা চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন, তাঁদের যেন এই নিয়ম থেকে ছাড় দেওয়া হয়।
কারণ, সেই সময়ে টেট দেওয়ার কোনও নিয়মই ছিল না। কিন্তু শীর্ষ আদালত সাফ জানিয়েছে, প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানোর জন্য টেট-ই হলো ন্যূনতম ও আবশ্যিক যোগ্যতা। আদালতের এই কড়া অবস্থানে সারা দেশের লক্ষ লক্ষ কর্মরত শিক্ষকের দুশ্চিন্তা বহাল রইল।
‘রাজনৈতিক প্রতারণা’! সুর চড়াচ্ছে বিরোধী শিবির
আদালতের এই রায়ের পর রাজ্য রাজনীতি ও শিক্ষা মহলে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। শিক্ষক নেতাদের নিশানায় এখন কেন্দ্রীয় সরকার ও রাজ্যের বর্তমান শাসকদল।
-
স্বপন মণ্ডল (বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতি): “কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান কলকাতায় এসে কথা দিয়েছিলেন যে তাঁরা রাজ্যে ক্ষমতায় এলে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করবেন। সরকারে আসা হলো, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হলো না! এমনকি, এই রিভিউ মামলায় কেন্দ্রের তরফে কোনও আইনজীবীও দেওয়া হয়নি। এ তো শিক্ষকদের সঙ্গে বড় প্রতারণা!”
-
কিঙ্কর অধিকারী (শিক্ষানুরাগী ঐক্যমঞ্চ): “এই নির্দেশে দেশের ধুঁকতে থাকা সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থা আরও অতলে তলিয়ে যাবে এবং শিক্ষার বেসরকারিকরণ বাড়বে। এখন একমাত্র পথ— কেন্দ্রীয় সরকার অর্ডিন্যান্স (অধ্যাদেশ) জারি করে এই নিয়ম বদলাক। রাজ্য সরকারেরও উচিত কেন্দ্রকে লিখিতভাবে চাপ দেওয়া।”
আপাতত ২০২৮ সাল পর্যন্ত চাকরি বাঁচানোর সাময়িক লাইফলাইন পেলেও, পরীক্ষার খাতায় বসার আশঙ্কায় রাতের ঘুম উড়েছে রাজ্যের হাজার হাজার প্রাথমিক ও উচ্চ-প্রাথমিক শিক্ষকের।
