দলের সাংসদের বিরুদ্ধেই স্পিকারের দ্বারস্থ কাকলি, বিপাকে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়?
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা : – তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মৌখিক হেনস্থার অভিযোগ তুলে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দিয়েছেন দলেরই সতীর্থ সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদার। অভিযোগ গুরুতর হলে স্পিকার তা প্রিভিলেজ কমিটিতে পাঠাতে পারেন।
কাকলির অভিযোগ, লোকসভার ভিতরে তাঁকে বারবার মৌখিক হেনস্থা করেছেন কল্যাণ। শুধু তাই নয়, কল্যাণের বিরুদ্ধে নারীবিদ্বেষের অভিযোগও তুলেছেন তিনি। চিঠিতে কাকলি দাবি করেছেন, মহিলা সদস্যদের প্রতি কল্যাণের নারীবিদ্বেষী মনোভাব রয়েছে। তাই কল্যাণের শাস্তি হওয়া উচিত বলে মনে করেন কাকলি।সংসদীয় প্রক্রিয়া অনুযায়ী, স্পিকার চাইলে অভিযোগ প্রিভিলেজ কমিটি বা স্বাধিকার কমিটির কাছে পাঠাতে পারেন। কমিটি দু’পক্ষকে ডেকে বয়ান নেবে, ঘটনার অনুসন্ধান করবে এবং রিপোর্ট তৈরি করবে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ করা যেতে পারে তার সুপারিশও করবে কমিটি। স্পিকার সেই রিপোর্ট খতিয়ে দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন। প্রিভিলেজ কমিটি চাইলে অভিযুক্ত সাংসদকে সাসপেন্ড বা বরখাস্ত করারও সুপারিশ করতে পারে।ঘটনাচক্রে, কল্যাণ নিজেই এই প্রিভিলেজ কমিটির সদস্য। ১৫ জনের কমিটিতে চেয়ারম্যান রবিশঙ্কর প্রসাদ-সহ আটজন বিজেপি তথা এনডিএ-র সাংসদ। বিরোধী শিবির থেকে রয়েছেন মণীশ তিওয়ারি, মাণিকম টেগোর এবং কল্যাণ নিজে।রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূলে কয়েকদিন ধরেই ‘বেসুরো’ কাকলি। রাজ্যে পালাবদলের পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কাকলিকে লোকসভার মুখ্য সচেতক পদ থেকে সরিয়ে কল্যাণকে দায়িত্ব দেন। তারপরেই সমাজমাধ্যমে কাকলি লেখেন, ‘আনুগত্যের পুরস্কার পেলাম…।‘ এরপর বারাসত সাংগঠনিক জেলা সভানেত্রীর পদ থেকে ইস্তফা, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠকে উপস্থিতি এবং দলের সমস্ত পদ থেকে সরে দাঁড়ানো নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে। সেই আবহেই কল্যাণের বিরুদ্ধে স্পিকারের দ্বারস্থ হয়েছেন কাকলি।
রাজনৈতিক মহলের মতে, কল্যাণ পাল্টা কাকলির বিরুদ্ধে নারদা মামলার প্রসঙ্গ টেনে অভিযোগ দায়ের করলে, সেটিও স্পিকার প্রিভিলেজ কমিটিতে পাঠাতে পারেন। তবে ফয়সালা হতে সময় লাগবে। কারণ রাহুল গান্ধী ও কীর্তি আজাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ-সহ আরও কয়েকটি বিষয় এখনও কমিটির কাছে বিচারাধীন। ২০২৪-এ লোকসভা নির্বাচনের পর দু’বছর কোনও প্রিভিলেজ কমিটি ছিল না। সম্প্রতি নতুন করে কমিটি গড়েছেন স্পিকার।
