যুদ্ধের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে ফিন্ডল্যান্ড থেকে ভোট দিতে দিলেন পাকিজা
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, বারুইপুর: ভোট মানে কেবল সরকার গঠন নয়, ভোট মানে প্রতিবাদের এক শক্তিশালী হাতিয়ার। বুধবার দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে তারই এক অনন্য নজির গড়লেন বারুইপুরের মেয়ে পাকিজা মণ্ডল। পেশা সূত্রে তিনি সুদূর ফিনল্যান্ডের বাসিন্দা। কিন্তু রাজ্যের ‘স্টেট ইনভেস্টিগেশন রিপোর্ট’ বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় বহু মানুষের নাম বাদ পড়ার প্রতিবাদ জানাতে কয়েক হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে নিজের ভিটেয় ফিরলেন বছর চল্লিশের এই মহিলা।
যুদ্ধ ও অগ্নিমূল্য টিকিটও দমাতে পারেনি জেদ
পাকিজা চেয়েছিলেন স্বামী মোস্তাক আলি মণ্ডল ও সন্তানসহ সপরিবারে ভোট দিতে আসতে। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিমানভাড়া বেড়ে যায় কয়েক গুণ। সাধ থাকলেও সাধ্য না হওয়ায় স্বামী ছাড়াই সাড়ে তিন বছরের ছেলেকে নিয়ে দেশে ফিরেছেন তিনি। পাকিজার কথায়:
“যুদ্ধের কারণে বিমানভাড়া ছিল আকাশছোঁয়া। তবু কষ্ট করে টিকিট কেটেছি শুধু এই দিনটার জন্য। এসআইআর-এর জবাব ব্যালটেই দিতে হতো।”
এসআইআর আতঙ্ক ও প্রতিবাদের ভাষা
বারুইপুর পশ্চিম কেন্দ্রের ভোটার পাকিজা বুধবার সকালে মদারহাট পপুলার অ্যাকাডেমিতে ভোট দিতে যান। ভোট দিয়ে হাসিমুখে বেরিয়ে তিনি জানান তাঁর এই দীর্ঘ যাত্রার আসল কারণ। পাকিজা বলেন, “আমার অনেক আত্মীয়স্বজনের নাম ভোটার তালিকা সংশোধনের পরেও ডিলিট করে দেওয়া হয়েছে। এসআইআর প্রক্রিয়া থেকে যেভাবে সাধারণ ভোটারদের বাদ দেওয়া হয়েছে, তার প্রতিবাদ জানাতেই আমার এই ভোট।”
এ ছাড়াও বিদেশ বিভুঁইয়ে থাকা পাকিজাকে তাড়া করে বেড়াচ্ছিল একরাশ আশঙ্কা। তিনি জানান, বাড়ির আত্মীয়রা ফোন করে বলেছিলেন যে ভোট না দিলে হয়তো ভোটার তালিকা থেকে তাঁর নামও বাদ চলে যেতে পারে। সেই অধিকার রক্ষার্থেই সব বাধা পেরিয়ে ফিনল্যান্ড থেকে বারুইপুরে ছুটে আসা।
পুরুলিয়া থেকে বারুইপুর: প্রতিবাদের সুর এক
প্রথম দফার ভোটে পুরুলিয়ায় এক গৃহবধূ তাঁর স্বামীর মৃত্যুর (যা এসআইআর আতঙ্কে হয়েছিল বলে দাবি) বদলা নিতে ইভিএমে জবাব দিয়েছিলেন। দ্বিতীয় দফায় বারুইপুরের পাকিজা প্রমাণ করলেন, ভৌগোলিক দূরত্ব থাকলেও সাধারণ মানুষের যন্ত্রণার ভাষা ও প্রতিবাদের ধরণ একই। প্রায় ১৫ দিন আগে বারুইপুরের বাড়িতে ফেরা পাকিজা মনে করেন, তাঁর এই একটি ভোট সেই সমস্ত মানুষদের হয়ে কথা বলবে, যাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার আজ কেড়ে নেওয়া হয়েছে।
পৃথিবীর বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশে পাকিজা মণ্ডলের এই সচেতনতা ও দায়িত্ববোধ আজ অনেকের কাছেই দৃষ্টান্ত হয়ে রইল।
