ভবানীপুরে বাহিনী ‘অতিসক্রিয়তা’ নিয়ে সংঘাত: মমতার অভিযোগ ওড়ালেন সিইও মনোজ আগরওয়াল
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা: ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় বুধবার সকাল থেকেই উত্তপ্ত তিলোত্তমার ‘হাইভোল্টেজ’ কেন্দ্র ভবানীপুর। একদিকে খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশ পর্যবেক্ষকদের বিরুদ্ধে ‘অত্যাচার’ ও ‘অতিসক্রিয়তার’ অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন, অন্যদিকে সেই অভিযোগ কার্যত খারিজ করে বাহিনীর পাশেই দাঁড়িয়েছেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল।
মুখ্যমন্ত্রীর তোপ: “বিজেপির সুরে নাচছে বাহিনী”
বুধবার সকালে ভবানীপুর কেন্দ্রের বিভিন্ন বুথ পরিদর্শনে বের হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “নির্বাচন কমিশন খোলামেলাভাবে আমাদের ওপর অত্যাচার করছে। বাইরে থেকে পুলিশ নিয়ে এসে ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে।”
মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান অভিযোগগুলি হলো:
-
কাউন্সিলরের বাড়িতে হানা: ভবানীপুরের ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর অসীম বসুর বাড়িতে গিয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনী ‘অত্যাচার’ চালিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। যদিও সেই সময় কাউন্সিলর বাড়িতে ছিলেন না।
-
ভোটারদের প্রভাবিত করা: কেন্দ্রীয় বাহিনী সাধারণ ভোটারদের ভয় দেখাচ্ছে এবং বিজেপির পক্ষে ভোট দিতে প্রভাবিত করছে।
-
পোস্টার ছেঁড়া: চক্রবেড়িয়া এলাকায় তৃণমূলের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন মমতা।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “পুলিশ বা বাহিনী নয়, ভোট দিচ্ছে মানুষ। মানুষের রায়েই এদের খুব দ্রুত বাংলা ছাড়তে হবে।”
কমিশনের পালটা জবাব: “পুলিশ ইনপুট মেনেই কাজ করেছে”
মুখ্যমন্ত্রীর এই গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে মুখ খুলেছেন সিইও মনোজ আগরওয়াল। তিনি স্পষ্ট জানান, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট করানোর স্বার্থে পুলিশ যা প্রয়োজন মনে করেছে, সেটাই করেছে। মনোজ আগরওয়ালের বক্তব্য:
“অশান্তি রুখতে পুলিশকে কোথায় যেতে হবে, তা পুলিশই ভালো জানে। নিশ্চয়ই পুলিশের কাছে নির্দিষ্ট কোনও ‘ইনপুট’ ছিল, সেই কারণেই তারা সেখানে (কাউন্সিলরের বাড়ি) গিয়েছিল। অবাধ ও সুষ্ঠু ভোট করানোর দায়িত্ব পুলিশের, আমরা তাদের কাজে হস্তক্ষেপ করতে পারি না।”
অশান্তির চাদরে ভবানীপুর
সকাল থেকেই ভবানীপুরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। তৃণমূলের দাবি, বাহিনী অতিসক্রিয় হয়ে সাধারণ মানুষকে বুথে যেতে বাধা দিচ্ছে। অন্যদিকে, কমিশনের দাবি—অশান্তি পাকানোর খবর পেয়েই নির্দিষ্ট জায়গায় তল্লাশি ও নজরদারি চালানো হচ্ছে। ৭টি জেলার ১৪২টি আসনে ভোট চললেও, স্পটলাইটে এখন ভবানীপুর এবং কমিশন-রাজ্য সংঘাত।
দিনের শেষে মানুষের রায় কার দিকে যায় এবং কমিশনের এই কড়া অবস্থান ভোটের ফলাফলে কী প্রভাব ফেলে, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।
