আজকের দিনেবাংলার আয়না

অ্যাম্বুল্যান্সে এসে ভোট দিলেন আক্রান্ত তৃণমূল সাংসদ মিতালি বাগ

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, আরামবাগ: শরীরে আঘাতের চিহ্ন দগদগে, কিন্তু মনোবল তুঙ্গে। হাসপাতাল থেকে ছুটি পেয়েই সোজা ভোটকেন্দ্রে হাজির হলেন আরামবাগের তৃণমূল সাংসদ মিতালি বাগ। বুধবার রাজ্যের ১৪২টি আসনের সঙ্গে ভোট চলছে আরামবাগের ১৩৯ নম্বর ওয়ার্ডেও। সেখানেই হুইল চেয়ারে বসে নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করলেন তিনি। ভোট দিয়ে বেরিয়ে তাঁর হুঙ্কার, “কণ্ঠনালি কেটে নিলেও জয় বাংলা বলব।”

অ্যাম্বুল্যান্সে করে বুথে পৌঁছালেন সাংসদ

নির্বাচনী প্রচারের শেষ লগ্নে গত কয়েকদিন আগে আরামবাগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভায় যাওয়ার পথে মিতালি বাগের ওপর হামলা হয় বলে অভিযোগ। তাঁর গাড়িতে বাঁশ-লাঠি দিয়ে হামলা চালানো হয়, ভেঙে দেওয়া হয় কাঁচ। জখম অবস্থায় তিনি আরামবাগ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। বুধবার সকালে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েই তিনি বাড়ি না গিয়ে অ্যাম্বুল্যান্সে করে বুথে পৌঁছান। সেখান থেকে দলীয় কর্মীরা তাঁকে হুইল চেয়ারে করে বুথের ভেতরে নিয়ে যান।

কেন্দ্রীয় বাহিনী ও বিজেপিকে তোপ

ভোটদানের পর মিতালি বাগ নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি অভিযোগ করেন:

  • দলদাস বাহিনী: কেন্দ্রীয় বাহিনী বিজেপির ‘দলদাস’ হিসেবে কাজ করছে। সাধারণ ভোটারদের ভয় দেখিয়ে বিজেপিকে ভোট দিতে বাধ্য করা হচ্ছে।

  • বহিরাগতদের আনাগোনা: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দমানোর জন্য ১৬টি রাজ্য থেকে বিজেপির নেতারা বাংলায় এসে হিংসার বার্তা দিচ্ছেন।

  • বিজেপির ব্যর্থতা: মিতালির দাবি, মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে তৃণমূলকে ভোট দিচ্ছেন। অনেক বুথে বিজেপি এজেন্ট দেওয়ার লোক পর্যন্ত খুঁজে পাচ্ছে না।

অভিষেকের হুঁশিয়ারি ও পুলিশের পদক্ষেপ

সাংসদ মিতালি বাগের ওপর হামলার ঘটনার পর হাসপাতালে তাঁকে দেখতে গিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের কাউকে রেয়াত করা হবে না। সেই ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ ইতিমধ্যেই কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এদিন মিতালি বাগ পুনর্ব্যক্ত করেন যে, বিজেপি হিংসা ও রক্তের রাজনীতি করলেও বাংলার মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের পক্ষেই রায় দেবেন।

জয়ের বিষয়ে নিশ্চিত তৃণমূল

আরামবাগের সাংসদ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানান, কোনো বাধাই তৃণমূলের জয় আটকাতে পারবে না। তাঁর কথায়, “বিজেপি হিংসার রাজনীতি করে, তাদের থেকে এর চেয়ে বেশি কিছু আশা করা যায় না। কিন্তু দিনশেষে জয় বাংলারই হবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *