ফলতায় ইভিএম কারচুপির অভিযোগ: পুনর্নির্বাচনের হুঁশিয়ারি কমিশনের
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, ফলতা: ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় বুধবার রাজ্যের ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ চলছে। কিন্তু ভোটের শুরু থেকেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রকে কেন্দ্র করে ছড়াল ব্যাপক উত্তেজনা। ইভিএম মেশিনে কারচুপির অভিযোগে সরব হয়েছেন বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পান্ডা। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনে গোটা বিধানসভাতেই পুনর্নির্বাচন হতে পারে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল।
ইভিএমে ‘সেলোটেপ’ বিতর্ক
বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পান্ডার অভিযোগ, ফলতার একাধিক বুথে ইভিএম মেশিনের নির্দিষ্ট বোতামে (বিজেপির প্রতীকের ওপর) সেলোটেপ লাগিয়ে সেটিকে অকার্যকর করে দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, এটি একটি সুপরিকল্পিত চক্রান্ত যাতে ভোটাররা বিজেপিতে ভোট না দিতে পারেন। তিনি বলেন, “এটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর সরাসরি আঘাত। পরিকল্পনা করেই এই কাজ করা হয়েছে।”
কমিশনের কড়া অবস্থান
অভিযোগ পাওয়ার পরেই নড়েচড়ে বসেছে নির্বাচন কমিশন। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছেন:
-
ইতিমধ্যেই এই ঘটনার বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করা হয়েছে।
-
অবজার্ভারদের রিপোর্ট খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
-
যে সমস্ত বুথে ইভিএমে টেপ লাগানোর প্রমাণ মিলবে, সেখানে পুনর্নির্বাচন হবে।
-
যদি দেখা যায় বড় সংখ্যক বুথে এই ঘটনা ঘটেছে, তবে পুরো ফলতা বিধানসভাতেই নতুন করে ভোট নেওয়া হতে পারে।
কমিশন সূত্রে খবর, আপাতত একটি বুথে এমন ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা মিললেও বাকি অভিযোগগুলো গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অমিত শাহর ফোন শুভেন্দুকে
ফলতার এই ঘটনা পৌঁছে গিয়েছে দিল্লির দরবারেও। ভোট চলাকালীনই বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে ফোন করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ফলতার পরিস্থিতি এবং ইভিএম কারচুপি নিয়ে শুভেন্দুর কাছ থেকে বিস্তারিত খোঁজ নেন তিনি। বিজেপি নেতৃত্ব এই ঘটনাকে ‘ভোট লুট’-এর নতুন কৌশল হিসেবেই দেখছে।
জাহাঙ্গির খানের খাসতালুক ও ‘সিংঘম’ ফ্যাক্টর
উল্লেখ্য, ফলতা তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খানের গড় হিসেবে পরিচিত এবং তিনি নিজেই এখানকার প্রার্থী। ভোটের আগে থেকেই এই এলাকা ছিল তপ্ত। সোমবারই উত্তরপ্রদেশের ‘সিংঘম’ খ্যাত পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয় পাল শর্মা জাহাঙ্গিরের বাড়িতে গিয়ে তাঁকে সতর্ক করে এসেছিলেন। রুটমার্চের সময় ভোটারদের আশ্বস্ত করেছিলেন তিনি। কিন্তু বুধবারের এই ‘টেপ কাণ্ড’ সেই নিরাপত্তা বেষ্টনী নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল।
এখন নজর কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে। ফলতার ভোটারদের কি আবার বুথমুখী হতে হবে? উত্তরের অপেক্ষায় রাজনৈতিক মহল।
