আজকের দিনেতিলোত্তমা

ঘরছাড়াদের ঘরে ফেরানোর আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর, তবে জুড়ে দিলেন ‘একুশের হিংসা’র কড়া শর্ত!

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতাঃ ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে বঙ্গে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই জেলায় জেলায় শাসকদলের বিরুদ্ধে হিংসা ও কর্মীদের ঘরছাড়া করার অভিযোগ তুলছিল তৃণমূল কংগ্রেস। শুক্রবার নবগঠিত অষ্টাদশ বিধানসভার প্রথম অধিবেশনেই এই ‘ভোট পরবর্তী হিংসা’ ইস্যু নিয়ে সরব হলেন নবনিযুক্ত বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। আর সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতেই এক নজিরবিহীন ও কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিলেন, সত্যিই যদি কেউ ঘরছাড়া হয়ে থাকেন, তবে তাঁকে সসম্মানে ঘরে ফেরাবে প্রশাসন। তবে তার আগে জুড়ে দিয়েছেন একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও কড়া শর্ত।

বিধানসভায় তরজা: শোভনদেবের অভিযোগ, শুভেন্দুর পাল্টা চাল

শুক্রবার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় স্পিকার হিসেবে রথীন্দ্রনাথ বোস নির্বাচিত হওয়ার পর হাউসে বক্তব্য রাখতে ওঠেন বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। সেখানেই তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই গেরুয়া শিবিরের অত্যাচারে রাজ্যের বহু তৃণমূল কর্মী-সমর্থক ও নেতা আক্রান্ত এবং ঘরছাড়া হয়ে রয়েছেন।

বিরোধী দলনেতার এই অভিযোগের পর পাল্টা বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “ভোট পরবর্তী হিংসায় কেউ ঘরছাড়া বলে আমার জানা নেই।” তবে একই সঙ্গে তিনি শোভনদেববাবুকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “যদি আপনার কথা মেনেও নিই, সেক্ষেত্রে আপনি রাজ্যের ডিজিপি-র কাছে সেইসব ঘরছাড়াদের নামের তালিকা পেশ করুন।”

কী সেই শর্ত? কারা ফিরবেন, কারা যাবেন জেলে?

মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বিরোধী দলনেতার দেওয়া তালিকা খতিয়ে দেখবে প্রশাসন। তবে ঘরছাড়াদের ঘরে ফেরার ক্ষেত্রে একটি বড় ‘ফিল্টার’ বা শর্ত থাকবে। মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন:

  • কারা ঘরে ফিরবেন: তালিকায় থাকা যে সমস্ত কর্মীদের বিরুদ্ধে কোনও অপরাধমূলক রেকর্ড নেই, তাঁরা যদি সত্যিই ঘরছাড়া হন, তবে স্থানীয় বিধায়ক এবং পুলিশ সুপার নিজে গিয়ে তাঁদের সসম্মানে ঘরে পৌঁছে দিয়ে আসবেন। নিরাপত্তার দায়িত্ব নেবে সরকার।

  • কারা গ্রেপ্তার হবেন: যদি দেখা যায় তালিকায় থাকা কোনও ব্যক্তি ২০২১ সালের (একুশের ভোট পরবর্তী হিংসা) মারাত্মক হিংসার ঘটনায় অভিযুক্ত এবং তাঁর নামে এফআইআর রয়েছে, তবে তাঁকে ঘরে ফেরানো তো দূর অস্ত, পুলিশ তাঁকে তৎক্ষণাৎ গ্রেপ্তার করবে।

“একুশের ভোট পরবর্তী হিংসায় অভিযুক্ত না হওয়া সত্ত্বেও যদি কেউ ঘরছাড়া থাকেন, তবেই তাঁকে সসম্মানে ফেরানো হবে। কিন্তু অপরাধীদের কোনও ছাড় দেওয়া হবে না।” — মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

রাজনৈতিক মহলের মতে, বিধানসভার প্রথম দিনেই বিরোধী দলনেতার অভিযোগকে কার্যত হাতিয়ার করে একুশের ভোট পরবর্তী হিংসার ছক মনে করিয়ে দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। একদিকে প্রশাসনের মানবিক মুখ এবং অন্যদিকে অপরাধীদের প্রতি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি— দুই বার্তাই অত্যন্ত কৌশলে বিধানসভার মঞ্চ থেকে দিয়ে রাখলেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *