আজকের দিনেবাংলার আয়না

দাদাগিরি-তোলাবাজিতে শ্রীঘরে দুর্গাপুরের ২ প্রাক্তন কাউন্সিলর

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, দূর্গাপুরঃ বাংলায় অপরাধমূলক কাজকর্ম ও তোলাবাজির বিরুদ্ধে পুলিশের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি স্পষ্ট হতেই জেলায় জেলায় শুরু হয়েছে জোরদার ধরপাকড়। ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই জেলা থেকে গ্রেপ্তার হলেন তিন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। একদিকে তোলাবাজি, দাদাগিরি ও প্রতারণার অভিযোগে পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুর থেকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে দুই প্রাক্তন কাউন্সিলরকে। অন্যদিকে, পুরনো খুনের মামলায় মুর্শিদাবাদে পুলিশের জালে জড়িয়েছেন এক দাপুটে তৃণমূল ব্লক সভাপতি।

দুর্গাপুরে পুলিশের মেগা অপারেশন: জালে ২ প্রাক্তন কাউন্সিলর

বৃহস্পতিবার রাতে দুর্গাপুর থানার পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করে প্রাক্তন কাউন্সিলর হীরা বাউরী ও মানস রায়কে। আজ, শুক্রবার ধৃতদের দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে তোলা হবে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে:

  • হীরা বাউরী: দুর্গাপুরের ফরিদপুরের বাসিন্দা হীরার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় তোলাবাজি ও দাদাগিরি চালানোর একাধিক অভিযোগ আসছিল।

  • মানস রায়: গোপালমাঠের বাসিন্দা এই প্রাক্তন কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে বহু মানুষের সঙ্গে আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। উল্লেখ্য, মানস রায় এর আগেও একাধিকবার পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।

সম্প্রতি নবান্ন তথা রাজ্য পুলিশের শীর্ষ স্তর থেকে তোলাবাজি ও গুন্ডাগিরির বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসনগুলিকে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই কড়া বার্তার আবহেই দুর্গাপুর থানার এই জোড়া গ্রেপ্তারির পদক্ষেপকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। পুলিশের স্পষ্ট দাবি, এলাকায় যারা দাদাগিরি বা অসামাজিক কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত, তাদের কাউকেই রেয়াত করা হবে না এবং এই অভিযান আগামী দিনেও চলবে।

মুর্শিদাবাদে খুনের মামলায় শ্রীঘরে তৃণমূল সভাপতি

এদিকে, পশ্চিম বর্ধমানের পাশাপাশি মুর্শিদাবাদ জেলাতেও বড়সড় পদক্ষেপ নিয়েছে পুলিশ। পুরনো একটি খুনের মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে নবগ্রাম ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের সভাপতি মহম্মদ এনায়েতউল্লাহকে।

পাঁচগ্রামের বাসিন্দা এনায়েতউল্লাহকে বৃহস্পতিবার রাতে নবগ্রাম থানার পুলিশ গ্রেপ্তার করে। পুলিশ জানিয়েছে, ২০২৩ সালে মেহেবুব শেখ নামে এক যুবকের রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় নাম জড়িয়েছিল এই তৃণমূল নেতার। সেই খুনের মামলার পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র রাখার মামলাও রুজু রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পুলিশ তাঁর খোঁজ চালাচ্ছিল। অবশেষে গতকাল রাতে তিনি পুলিশের জালে ধরা পড়েন।

পঞ্চায়েত ও পুরভোটের আগে দুই জেলাতেই এই হাই-প্রোফাইল গ্রেপ্তারির ঘটনায় ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজনৈতিক মহলে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *