বঙ্গ জয়ের পর এবার পুরভোট ও উপনির্বাচনে পাখির চোখ বিজেপির
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতাঃ বঙ্গে এসেছে ঐতিহাসিক পরিবর্তন। বিপুল জনসমর্থন নিয়ে রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি সরকার। তবে ‘বাংলা জয়’ পর্ব মিটতেই এবার পরবর্তী লক্ষ্যের দিকে এগোতে শুরু করল গেরুয়া শিবির। লক্ষ্য, রাজ্যের ১২১টি পুরসভা এবং ৭টি পুরনিগমের আসন্ন নির্বাচন। জেলা স্তরে সংগঠনকে আরও মজবুত করতে এবং আমজনতার আরও কাছে পৌঁছতে এবার চার হেভিওয়েট নেতাকে সামনে রেখেই রণকৌশল সাজাচ্ছে বিজেপি নেতৃত্ব।
দিল্লির হাইকম্যান্ডের ভরসা এখন বঙ্গ বিজেপির সেই ‘চার মূর্তি’— মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার এবং রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। এই চার নেতার যৌথ নেতৃত্বেই আগামী দিনে বাংলার পুরভোটের বৈতরণী পার করতে চাইছে পদ্মশিবির।
জেলায় জেলায় ‘অভিনন্দন যাত্রা’ ও সাংগঠনিক রদবদল
বিজেপি সূত্রে খবর, ঐতিহাসিক জয়ের পর রাজ্যের মানুষকে ধন্যবাদ জানাতে জেলায় জেলায় ‘অভিনন্দন কর্মসূচি’ বা ধন্যবাদের যাত্রা শুরু করতে চলেছে দল। এই কর্মসূচির মূল কান্ডারি হিসেবে থাকবেন শুভেন্দু, শমীক, সুকান্ত ও দিলীপ ঘোষই। এর পাশাপাশি, সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে দলের শক্তি বৃদ্ধি এবং নতুন-পুরনো কর্মীদের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখতে সাংগঠনিকভাবে একাধিক কর্মসূচি নেওয়া হবে।
পাখির চোখ ফলতা উপনির্বাচন ও নন্দীগ্রামের লড়াই
সামনে রয়েছে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচন। বিধানসভায় বিধায়ক সংখ্যা আরও বাড়ানোর লক্ষ্যে দু’দিন আগেই সল্টলেকের পার্টি অফিসে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক সারেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে ফলতায় জয়ের ধারা বজায় রাখতে সমস্ত রকম রণকৌশল চূড়ান্ত করেছে পদ্মশিবির।
অন্যদিকে, শুভেন্দু অধিকারী ভবানীপুর এবং নন্দীগ্রাম— দুই আসন থেকেই জয়লাভ করেছেন। হেভিওয়েট কেন্দ্র ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়ে ‘জায়ান্ট কিলার’ তকমা পাওয়া শুভেন্দু অবশেষে ভবানীপুরের বিধায়ক হিসেবে শপথ নিয়েছেন। ফলে তাঁর ছেড়ে দেওয়া নন্দীগ্রাম আসনে ফের উপনির্বাচন হতে চলেছে। তবে বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, নন্দীগ্রামে ফের ফুটবে পদ্ম এবং বিপুল ব্যবধানেই জয় আসবে।
দিল্লির গুড বুকে ‘চার মূর্তি’
নির্বাচনী প্রচারে উত্তর থেকে দক্ষিণ বঙ্গে ঝড় তুলেছিলেন এই চার নেতা। দলীয় সূত্রের দাবি:
-
শুভেন্দু অধিকারী: ‘জায়ান্ট কিলার’ এবং বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁর জনপ্রিয়তা এখন তুঙ্গে। লড়াকু নেতা হিসেবে কর্মীদের মনোবল বাড়াতে তাঁর জুড়ি মেলা ভার।
-
শমীক ভট্টাচার্য: দলের সফলতম সভাপতি হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে তাঁকে। তাঁর নেতৃত্বেই বাংলা দখল করেছে বিজেপি। নতুন-পুরনো কর্মীদের এক ছাতার তলায় এনে পুরো সংগঠনকে মাঠে নামিয়েছেন তিনি।
-
সুকান্ত মজুমদার: কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা দক্ষ সংগঠক হিসেবে জেলায় জেলায় ঘুরে সংগঠনকে মজবুত করেছেন।
-
দিলীপ ঘোষ: নিজের কেন্দ্র খড়গপুরের পাশাপাশি রাজ্যজুড়ে সাধারণ মানুষের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় নেতা হিসেবে দলের হয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছেন।
নরেন্দ্র মোদী থেকে শুরু করে অমিত শাহ— দিল্লির শীর্ষ নেতৃত্ব এই চার নেতার উপরেই সম্পূর্ণ আস্থা রাখছেন। বিধানসভা মিটলেও বঙ্গে বিজেপির এই বিজয়রথ ধরে রাখাই এখন এই চার মূর্তির সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
