আজকের দিনেতিলোত্তমাবাংলার আয়না

এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছাড়লেন ‘বালু’

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,কলকাতা: সময় যত এগোচ্ছে, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একাকীত্ব যেন ততটাই স্পষ্ট হচ্ছে। এবার দল তথা নেত্রীর হাত ছাড়লেন রেশন দুর্নীতি মামলায় জেলখাটা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ওরফে বালু। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, মাত্র গত শনিবারই জ্যোতিপ্রিয়কে দলের জাতীয় কর্ম সমিতির সদস্য করেছিলেন তৃণমূল নেত্রী। কিন্তু এক সপ্তাহ ঘোরার আগেই সদ্য পাওয়া পদসহ দলের যাবতীয় পদ থেকে ইস্তফা দিলেন তিনি।

১৯৯৮ সালে তৃণমূলের প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যতম বিশ্বস্ত এবং লড়াকু সঙ্গী হিসেবে পরিচিত ছিলেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। নেত্রীর ভরসায় বারবার টিকিট পেয়েছেন, বিধায়ক ও মন্ত্রিত্বের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও সামলেছেন। রেশন দুর্নীতি মামলায় ইডি-র হাতে গ্রেফতার হয়ে জেলযাত্রা হওয়ার পরও বালুর ওপর থেকে ভরসা হারাননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উল্টে বিভিন্ন রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে বারবার দাবি করেছেন, ‘বালুকে ফাঁসানো হয়েছে।’

এমনকি ছাব্বিশের নির্বাচনী প্রচারে হাবড়ায় গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যেই বালুকে দরাজ সার্টিফিকেট দিয়ে বলেছিলেন, “আমার মন্ত্রিসভায় বালু সবথেকে ভালো কাজ করেছে।” দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও এবারও তাঁকে হাবড়া থেকে টিকিট দেন নেত্রী। যদিও নির্বাচনে পরাজয় ঘটে তাঁর।

আচমকা কেন এই সিদ্ধান্ত? হারের পর থেকে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে সেভাবে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। তবে রাজনৈতিক দুর্দিনেও বালু সঙ্গ ছাড়বেন না— এই বিশ্বাস থেকেই গত শনিবার তাঁকে জাতীয় কর্ম সমিতিতে নিয়ে আসেন মমতা। কিন্তু কয়েকদিনের মধ্যেই বদলে গেল সমীকরণ। ইতিমধ্যেই দলের কাছে নিজের ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী।

আচমকা এই ইস্তফার কারণ হিসেবে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক জানিয়েছেন তাঁর শারীরিক অসুস্থতার কথা। প্রাক্তন মন্ত্রীর কথায়, “আমার ৩৫০-এর ওপর সুগার, কিডনি খারাপ হয়ে গিয়েছে। তাই এই অবস্থায় দলের কোনও কাজকর্মে আমি এখন যুক্ত থাকতে পারছি না। তাই সব পদ ছেড়ে দিলাম।”

‘ডুবন্ত জাহাজ’ ছাড়ার হিড়িক?

জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক অসুস্থতার দোহাই দিলেও, রাজনৈতিক মহলে কিন্তু অন্য জল্পনা শুরু হয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের মতে, বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের এই বিপর্যয় এবং দলের ‘জাহাজ ডুবতে’ দেখেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বালু। উত্তরবঙ্গে গৌতম দেবের মেয়র পদ থেকে ইস্তফার পর দক্ষিণবঙ্গে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের মতো আদি ও বিশ্বস্ত নেতার এই সিদ্ধান্ত তৃণমূলের অন্দরে বড়সড় ধাক্কা বলেই মনে করছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *