Kakoli-TMC : ভোটে বিপর্যয়ের জের, মুখ্য সচেতক পদ খোয়াতেই দলকে বিঁধলেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার !
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- বিধানসভা নির্বাচনে বিপর্যয়ের পরই তৃণমূলের অন্দরে শুরু হয়ে গিয়েছে মুষলপর্ব। এবার দলের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যেই মুখ খুললেন বারাসতের সাংসদ এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের সঙ্গী কাকলি ঘোষ দস্তিদার। একদিন আগেই লোকসভায় দলের মুখ্য সচেতক পদ থেকে কাকলিকে সরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দলনেত্রী। তারপরই সোশাল মিডিয়ায় বিস্ফোরক পোস্ট করলেন চারবারের সাংসদ।
তৃণমূল নেত্রীর সঙ্গে দীর্ঘ সংগ্রামের অতীত মনে করিয়ে কাকলি কটাক্ষ করে লিখেছেন, ‘৭৬ থেকে পরিচয়, ৮৪ থেকে পথ চলা শুরু। ৪ দশকের আনুগত্যের জন্য আজ পুরষ্কৃত হলাম।’ কোনও বিষয় উল্লেখ না করলেও তিনি যে ওই ‘পুরস্কার’-এর প্রসঙ্গ তুলে দলকেই কটাক্ষ করেছেন, তা স্পষ্ট। দিন কয়েক আগে ভোটে হারের পর দলের ‘নিস্ক্রিয়তা’ নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় দলকে কটাক্ষ করেছিলেন কাকলির ছেলেও। এবার বারাসতের সাংসদ নিজেই বিঁধলেন দলকে। আসলে ছাব্বিশের ভোটে উত্তর ২৪ পরগনার মতো শক্ত গড়েও তৃণমূল কংগ্রেসের ফলাফল আশাপ্রদ হয়নি। ৩৩টির মধ্যে মাত্র ৯টি আসন এসেছে ঘাসফুলের দখলে। বারাসত-সহ আশপাশের বেশিরভাগ বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি জয়ী হয়েছে। এরপরই দলের তরফে বারাসতের সাংসদের ডানা ছাঁটা হয়। বৃহস্পতিবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতে দলের অভ্যন্তরীণ বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, কাকলি ঘোষ দস্তিদারের বদলে লোকসভায় দলের মুখ্য সচেতক পদে ফিরিয়ে আনা হবে বর্ষীয়ান সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তিনিই চিফ হুইপের দায়িত্ব সামলাবেন। দলীয় সূত্রের খবর, ভোটে খারাপ ফলের দায় অনেকটাই সাংসদের উপর চাপাতে চাইছে শীর্ষ নেতৃত্ব।
ভোটের ভরাডুবির পর তৃণমূলের অন্দরে ক্ষোভ-বিক্ষোভ সামনে আসছে। কাকলি ঘোষ দস্তিদারের এই বিস্ফোরক পোস্ট তারই ইঙ্গিত। মুখ্য সচেতকের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়াকে ‘পুরস্কার’ বলে কটাক্ষ করায় দলের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব আরও বাড়ল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। উত্তর ২৪ পরগনায় সংগঠনের হাল ফেরাতে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফেরানোর এই সিদ্ধান্ত কতটা কাজে দেয়, সেটাই এখন দেখার।
