আজকের দিনেবাংলার আয়না

স্ট্রংরুমের সিসি ক্যামেরা বন্ধ ঘিরে রণক্ষেত্র, বিস্ফোরক বায়রন

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,জঙ্গিপুর: ভোট মিটলেও উত্তেজনা কমছে না মুর্শিদাবাদে। এবার জঙ্গিপুর পলিটেকনিক কলেজের স্ট্রংরুমের সিসি ক্যামেরা দফায় দফায় বন্ধ হওয়াকে কেন্দ্র করে শনিবার ভোররাতে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল এলাকা। খবর পেয়েই অনুগামীদের নিয়ে সেখানে পৌঁছে যান সাগরদিঘির তৃণমূল প্রার্থী বায়রন বিশ্বাস। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রাজ্য পুলিশের সঙ্গে তীব্র বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন তিনি। এই ঘটনাকে বিজেপির গভীর ‘ষড়যন্ত্র’ বলে তোপ দেগেছেন শাসকদলের এই প্রার্থী।

কী ঘটেছিল শুক্রবার রাতে?

শুক্রবার রাত থেকেই স্ট্রংরুমের বাইরে কড়া পাহারায় ছিলেন তৃণমূলের কর্মীরা। অভিযোগ, মাঝরাতের পর থেকেই স্ট্রংরুমের সিসি ক্যামেরা বারবার বিকল হয়ে যেতে শুরু করে। তৃণমূল শিবিরের দাবি:

  • প্রথমবার ক্যামেরা বন্ধ হলে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তা সচল হয়।

  • রাত গভীর হতেই ফের ক্যামেরাগুলো বন্ধ হয়ে যায়।

  • খবর পেয়েই ভোররাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছান বায়রন বিশ্বাস।

“এটা টেকনিক্যাল নয়, দিল্লি ফল্ট”: বায়রন

ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্ট্রংরুমের দায়িত্বে থাকা অফিসারদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন বায়রন। এসডিও-র সঙ্গে ফোনে কথা বলার পর পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও বায়রন বিশ্বাসের অভিযোগের তির সরাসরি কেন্দ্রের দিকে। তিনি বলেন:

“রাত থেকে বারবার ক্যামেরা বন্ধ হচ্ছে। এসডিও বলেছিলেন সকালে ঠিক হবে, পরে চাপে পড়ে আধঘণ্টার মধ্যে সচল করান। কিন্তু আবারও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এটা টেকনিক্যাল ফল্ট নয়, এটা দিল্লি ফল্ট (দিল্লির নির্দেশ)।”

ষড়যন্ত্রের অভিযোগ ও বিস্ফোরক দাবি

এদিন অত্যন্ত ক্ষুব্ধ মেজাজে বায়রন বিশ্বাস দাবি করেন, বাংলায় ভোটের কোনো প্রয়োজনই নেই। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় বাহিনী ও প্রশাসন মিলে তৃণমূল প্রার্থীদের হারানোর চক্রান্ত করছে। তিনি বিস্ফোরক মন্তব্য করে বলেন, “আমাকে নিয়ে মুর্শিদাবাদের চার তৃণমূল প্রার্থীই হারবেন।” প্রসঙ্গত, প্রথম দফার ভোটের দিনও সামশেরগঞ্জে ৫ বার তল্লাশির মুখে পড়ে ভোট না দিয়েই বেরিয়ে এসেছিলেন তিনি। সেদিনও প্রশ্ন তুলেছিলেন, “আমি কি সন্ত্রাসবাদী?”

বর্তমান পরিস্থিতি

ভোররাতের এই গণ্ডগোলের পর স্ট্রংরুম চত্বরে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। যদিও সিসি ক্যামেরা বিকল হওয়া নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ‘যান্ত্রিক গোলযোগ’-এর কথা বলা হচ্ছে, তবে তা মানতে নারাজ তৃণমূল নেতৃত্ব। গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার সকাল থেকেই সরগরম জঙ্গিপুর।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *