আজকের দিনেতিলোত্তমা

সল্টলেকের গেস্ট হাউসে তরুণীর রহস্যমৃত্যু

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,কলকাতা: সল্টলেকের এক গেস্ট হাউসে তরুণীর রহস্য মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ালো এলাকায়। প্রাথমিক তদন্তে আমগাছ থেকে পড়ে গিয়ে মৃত্যুর কথা বলা হলেও, মৃতার পরিবারের তরফে তোলা হয়েছে অত্যন্ত মারাত্মক অভিযোগ। তাঁদের দাবি, তরুণীকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। ঘটনার তদন্তে নেমে ইতিমধ্যেই এক মহিলাসহ দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ।

ঠিক কী ঘটেছিল?

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত সোমবার রাতে ওই তরুণী তাঁর এক বান্ধবী এবং দুই যুবকের সঙ্গে একটি অ্যাপ ক্যাব বুক করে সল্টলেকের ওই নির্দিষ্ট গেস্ট হাউসে আসেন। এরপর গভীর রাতে আচমকাই সেখানে শোরগোল পড়ে যায়।

তরুণীর সঙ্গীদের দাবি, মাঝরাতে গেস্ট হাউস চত্বরে থাকা একটি আমগাছে আম পাড়তে উঠেছিলেন ওই তরুণী। সেই সময় আচমকাই অসাবধানতাবশত পা পিছলে নিচে পড়ে যান তিনি। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

পরিবারের বিস্ফোরক অভিযোগ: ‘গাছে উঠতেই জানত না মেয়ে’

সঙ্গীদের দেওয়া এই ‘আম পাড়ার তত্ত্ব’ কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না মৃত তরুণীর পরিবার। বিধাননগর উত্তর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে পরিবারের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, তাঁদের মেয়ে কোনোদিন গাছে উঠতেই পারতেন না। ফলে মাঝরাতে আম পাড়তে গাছে ওঠার গল্প সম্পূর্ণ সাজানো এবং আসল ঘটনা আড়াল করার চেষ্টা। মৃতার পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, গেস্ট হাউসের ভেতরে তরুণীকে প্রথমে ধর্ষণ করা হয় এবং প্রমাণ লোপাট করতে বা ঘটনা ধামাচাপা দিতে তাঁকে গেস্ট হাউসের ওপর থেকে নিচে ফেলে দেওয়া হয়েছে।

তদন্তে পুলিশ, গ্রেপ্তার ২

ঘটনার খবর পেয়েই পুলিশ হাসপাতালে পৌঁছে মৃতদেহটি উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। এই রহস্যময় মৃত্যুর প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ। ঘটনার রাতে তরুণীর সঙ্গে থাকা সঙ্গীদের জিজ্ঞাসাবাদ করার পর, এক মহিলাসহ দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে খবর: ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর আসল কারণ স্পষ্ট হবে। এটি দুর্ঘটনা, নাকি এর পেছনে কোনো গভীর ষড়যন্ত্র বা অপরাধ রয়েছে—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অ্যাপ ক্যাবের চালক এবং গেস্ট হাউসের কর্মীদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। এই ঘটনায় সল্টলেকের ওই গেস্ট হাউসের নিরাপত্তা এবং সেখানে চলা অন্যান্য কাজকর্ম নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। শেষ পর্যন্ত ময়নাতদন্তের রিপোর্টে কী তথ্য সামনে আসে, এখন সেদিকেই নজর সবার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *