ডিভিসি বিতর্কে ইতি? মমতা জমানার নীতি বদলে ‘ড্যাম কমিটিতে’ ফিরছে শুভেন্দু সরকার
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,কলকাতা: রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এবার প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও বড়সড় নীতি বদলের পথে নতুন সরকার। তৃণমূল জমানার সংঘাতের রাস্তায় না হেঁটে, দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশনের সঙ্গে এবার সরাসরি সমন্বয় সাধনে জোর দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সূত্রের খবর, দীর্ঘ দু’বছর পর ফের ‘দামোদর ভ্যালি রিভার রেগুলেশনস কমিটি’-তে নিজেদের প্রতিনিধি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। অতীতে ডিভিসির জল ছাড়া নিয়ে তৈরি হওয়া সংঘাত এড়াতেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
মমতা জমানার ‘ম্যান মেডের’ পাল্টা শুভেন্দুর ‘সমন্বয়’
তৃণমূল আমলে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের বন্যা পরিস্থিতির জন্য বারে বারে ডিভিসি-কে কাঠগড়ায় তুলেছেন। না জানিয়ে জল ছাড়ার কারণে দক্ষিণবঙ্গে ‘ম্যান মেড বন্যা’ হচ্ছে— এই অভিযোগ তুলে ক্ষোভে বিগত সরকার ডিভিসির এই রেগুলেশনস কমিটি থেকে নিজেদের প্রতিনিধি প্রত্যাহার করে নিয়েছিল। গত দু’বছর ধরে এই কমিটিতে বাংলার কোনো প্রতিনিধি ছিল না। তবে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রশাসনিক স্তরে খোলনলচে বদল শুরু করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্য ও কেন্দ্রের মধ্যে এই দীর্ঘদিনের জল-সংঘাত মেটাতে তিনি এবার আলোচনার রাস্তা বেছে নিলেন।
ভার্চুয়াল বৈঠক ও নবান্নের নতুন নির্দেশ
প্রশাসনিক সূত্রে খবর, গত বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ডিভিসি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের ভার্চুয়াল বৈঠক করেন। সেই বৈঠকেই স্পষ্ট করে দেওয়া হয়, ভবিষ্যতে রাজ্যকে অন্ধকারে রেখে জল ছাড়া যাবে না। মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন:
-
এবার থেকে ডিভিসি পুরোপুরি রাজ্যের সঙ্গে সমন্বয় ও আগাম বার্তা বজায় রেখে জল ছাড়বে।
-
রাজ্যের বিদ্যুৎ দপ্তর এবং সেচ দপ্তরের প্রতিনিধিরা ডিভিসির সঙ্গে চব্বিশ ঘণ্টা নিয়মিত যোগাযোগ রেখে কাজ করবেন।
-
বর্ষার মরসুমে যাতে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোতে প্লাবনের পরিস্থিতি তৈরি না হয়, তার জন্য আগাম ব্লু-প্রিন্ট তৈরি রাখতে হবে।
বর্ষার আগেই অ্যাকশন মোডে অগ্নিমিত্রা পাল
অন্য দিকে, ডিভিসির পাশাপাশি রাজ্যের অভ্যন্তরীণ নিকাশি ব্যবস্থা নিয়েও তৎপরতা শুরু হয়েছে নবান্নে। সামনেই বর্ষা, আর তার আগেই রাজ্যের সমস্ত পুরসভাগুলোকে সক্রিয় হওয়ার কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। এদিন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “সামনেই বর্ষাকাল আসছে। জল জমার চেনা ছবি যাতে কোথাও না দেখা যায়, তার জন্য নিকাশি ব্যবস্থা সংস্কার এবং আবর্জনা পরিষ্কারের কাজগুলো যুদ্ধকালীন তৎপরতায় এখনই শুরু করতে হবে।”
রাজনৈতিক মহলের বক্তব্য: রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ডিভিসি কমিটিতে প্রতিনিধি ফিরিয়ে আনা শুভেন্দু সরকারের একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ প্রশাসনিক চাল। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন আগের সরকারের ‘সংঘাতের রাজনীতি’ থেকে সরে আসার বার্তা দেওয়া হলো, তেমনই আসন্ন বর্ষায় দক্ষিণবঙ্গকে বন্যার হাত থেকে রক্ষা করার আগাম দায়িত্বও কাঁধে নিল নতুন মন্ত্রিসভা।
