আজকের দিনেতিলোত্তমা

ভোটের মাত্র ১০ দিন আগে ভিনরাজ্যের আইপিএস-কে বাংলার পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়োগ

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কলকাতা, কিউ ইন্ডিয়া বাংলা: আগামী ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার নির্বাচন। হাতে সময় মাত্র ১০ দিন। আর তার ঠিক আগেই রাজ্যে ফের পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। ভিনরাজ্যের এক আইপিএস অফিসারকে বাংলার পুলিশ পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নবনিযুক্ত এই পুলিশ পর্যবেক্ষকের নাম সর্বানা বিবেক এম। তিনি ওড়িশা ক্যাডারের একজন আইপিএস অফিসার।

কমিশনের চোখ এখন আইনশৃঙ্খলায় নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, রাজ্যে নির্বাচনী আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজ ঠিকমতো এগোচ্ছে কিনা, মূলত সেদিকেই কড়া নজর রাখবেন এই নতুন পুলিশ পর্যবেক্ষক। এবং রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি সংক্রান্ত যাবতীয় রিপোর্ট তিনি সরাসরি কমিশনে পাঠাবেন। উল্লেখ্য, এই প্রথমবার নয়। ভোট ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যের পুলিশ প্রশাসনে একের পর এক রদবদল করেছে নির্বাচন কমিশন। একাধিক পুলিশ আধিকারিক ও আইপিএস-কে সরিয়ে দিয়ে ভিনরাজ্যের আধিকারিকদের হাতে বাংলার ভোট পরিচালনার দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে। কমিশনের এই ভূমিকা নিয়ে শাসক শিবির তৃণমূল কংগ্রেস একাধিকবার সরব হলেও, বদলির এই ধারা অব্যাহত রেখেছে কমিশন।

লক্ষ্য ‘রক্তপাতহীন’ ছাব্বিশের নির্বাচন বাংলার ভোটে অশান্তি, বোমাবাজি বা প্রাণহানির ইতিহাস নতুন নয়। একুশের বিধানসভা নির্বাচনের পর ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। বিশেষ করে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, মুর্শিদাবাদ বা মালদহের মতো জেলাগুলিতে একাধিক অশান্তির ঘটনা ঘটেছিল। তবে চব্বিশের লোকসভা নির্বাচন ছিল মোটের উপর শান্তিপূর্ণ। ভোট কিংবা ভোট পরবর্তী হিংসায় একজন মানুষেরও প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। ছাব্বিশের নির্বাচনেও চব্বিশের সেই শান্তিপূর্ণ ধারা বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর নির্বাচন কমিশন।

জ্ঞানেশ কুমারের কড়া বার্তা অশান্তি এড়াতে এবং নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে ভোটের কাজে যুক্ত প্রত্যেক আধিকারিককে কড়া বার্তা দিয়েছেন ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, আধিকারিকদের শুধুমাত্র কমিশনের নির্দেশমতো কাজ করতে হবে। কোনও রাজনৈতিক দল বা নেতার নির্দেশে কাজ করার প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি, রাজ্যের প্রতিটি জেলার পুলিশ সুপারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কোথাও কোনওরকম হিংসা বা অশান্তির খবর পেলেই যেন অবিলম্বে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *