আজকের দিনেবিশ্ব

পাকিস্তান থেকে তেহরানে ফিরেই ভয়ঙ্কর অভিযোগ ইরানের প্রতিনিধি দলের

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- পাকিস্তান থেকে তেহরানে ফিরেই ভয়ঙ্কর অভিযোগ করলেন ইরানের প্রতিনিধি দলের  সদস্যরা । গত ১ ১ এপ্রিল ইসলামাবাদে আমেরিকা ও ইরানের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা শান্তি বৈঠকে বসেছিলেন । পাকিস্তানের মাটিতে হওয়া এই বৈঠকে কোনও রফাসূত্র মেলেনি। এতে কোনও আক্ষেপ নেই। বরং তাঁরা যে প্রাণ নিয়ে দেশে ফিরতে পেরেছেন সেটাই বড় কথা বলে জানালেন ইরানের প্রতিনিধি দলের অন্যতম সদস্য সদস্য মহম্মদ মারান্দি । ইসলামাবাদে পা রাখার আগেই তাঁদের হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন তিনি। মারান্দি জানিয়েছেন, গোপনে বিমান বদলে তাঁরা কোনও রকমে দেশে ফেরেন। লেবাননের এক সংবাদমাধ্যমকে আল-মায়াদিনকে মারান্দি বলেন, আমেরিকাকে আমরা আর বিশ্বাস করি না।’ তবে কারা হুমকি দিয়েছিল, সেই নিয়ে সরাসরি মুখ খুলতে দেখা যায়নি তাকে।

পাকিস্থানের মধ্যস্ততায় শান্তি বৈঠকে যোগ দিতে ১১ ই এপ্রিল  শনিবার ভোরে ইসলামাবাদে পৌঁছে গিয়েছিলেন ইরানের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি, পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ ঘালিবাফদের সঙ্গে ছিলেন তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজির অধ্যাপক মারান্দিও। রাজনৈতিক বিশ্লেষক হিসেবেও তাঁর সুনাম রয়েছে। তিনি দাবি করেন, পাকিস্তানে যাওয়ার পথেই তাঁদের হুমকি দেওয়া শুরু হয়। মারান্দির কথায়, ‘আমরা তখন ইসলামাবাদে যাচ্ছি। সবাই বিমানে রয়েছি। তখনই আমাদের কাছে খবর আসে, বিমানে হামলা হতে পারে।’ তার পর থেকে ভয়ে সিঁটিয়ে ছিলেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।

দুপুরের দিকে ইসলামাবাদে পৌঁছন আমেরিকার তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল। তার পরে ২১ ঘণ্টা আলোচনা চলে। কিন্তু জট কাটেনি। তবে রফাসূত্র না-ই মিলুক, বৈঠক শেষ হওয়ার পরে আর এক মুহূর্ত অপেক্ষা করেননি ইরানের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। প্রাণ হাতে নিয়ে কোনও রকমে বিমানে ওঠেন তাঁরা। মারান্দির কথায়, ‘তেহরানে ফেরার পথে আমরা সবার আগে বিমান পরিবর্তন করি। সেটাও খুব গোপনে।’ কারও নাম না নিলেও পরোক্ষভাবে অভিযোগের তীর আমেরিকার দিকে রয়েছে বলেই বোঝাতে চেয়েছেন তিনি। ইসলামাবাদ থেকে সরাসরি তেহরান যেতে আড়াই ঘণ্টা মতো সময় লাগে। কিন্তু লাগাতার হুমকির মুখে কোনও রকম ঝুঁকি নেওয়ার সাহস দেখায়নি ইরানের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। তাঁরা প্রথমে আফগানিস্তানের গা ঘেঁষা মাসহাদ শহরে অবতরণ করেন। সেখান থেকে প্রায় ৭৩০ কিলোমিটার পথের কিছুটা ট্রেনে বাকিটা বাসে করে তেহরানে পৌঁছন সবাই। মারান্দির কথায়, ‘আমরা কোনও দিনই আমেরিকাকে বিশ্বাস করি না।বর্তমানে ইরান এখন ভবিষ্যৎ যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে।’ আলোচনার টেবিলে বসলেও সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর কাজ চলছে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

যুদ্ধবিরতির মধ্যেও দুই দেশের ঠাণ্ডা লড়াই চলছে , এরই মধ্যে দ্বিতীয় দফার শান্তি বৈঠক করার ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প । দ্বিতীয় দফার শান্তি বৈঠকটি পাকিস্থানের বদলে অন্য দেশে অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে । এই বৈঠকে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কোনো রফাসূত্র বেরোয় কি না সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা বিশ্ব ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *