‘ইন্দ্রজিৎকে ফেরাতে পারব না’ — পরিবারকে ২৫ লক্ষ ও চাকরি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, বারুইপুর :- বারুইপুরের গণপিটুনিতে মৃত ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল নির্দোষ ছিলেন। সন্তানহারা পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে ২৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য এবং নিহতের দাদাকে সরকারি চাকরি দেওয়ার কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
শনিবার ইন্দ্রজিতের বারুইপুরের বাড়িতে যান মুখ্যমন্ত্রী। নিহতের বৃদ্ধ বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, “ইন্দ্রজিৎকে ফিরিয়ে দিতে পারব না। তবে খুনিদের চরম শাস্তি হবে।”
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, “নাম, পরিচয় দেখে ইন্দ্রজিৎকে খুন করা হয়েছে। ভোটে যারা হেরেছে তাদের উসকানিতে খুন। ব়্যাডিকাল, মৌলবাদী এমনকি অতিবামের ষড়যন্ত্রও থাকতে পারে।” ভিডিওতে যাদের দেখা গিয়েছে তাদের দিঘা, বকখালি থেকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
সরকারের তরফে ইন্দ্রজিতের বাবা-মায়ের হাতে ২৫ লক্ষ টাকার চেক তুলে দেওয়া হয়। নিহতের দাদা বাপি মণ্ডলকে সিভিক ভলান্টিয়ারের চাকরি দেওয়া হয়েছে। পোস্টিং হবে সূর্যপুর পুলিশ ফাঁড়িতে। দাঙ্গাকারীদের ভাঙচুরে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি সংস্কারের কাজও করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বাবার জন্য বার্ধক্যভাতা এবং মায়ের জন্য অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ৪ জুলাই বারুইপুরের এক নাবালিকা নিখোঁজ হয়। ৫ জুলাই পুকুর থেকে তার দেহ উদ্ধার হয়। অভিযোগ গণধর্ষণের পর খুন। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৪ জন গ্রেপ্তার। মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল পুলিশি এনকাউন্টারে নিহত হয়। নাবালিকার দেহ নিয়ে বিক্ষোভের সময় সন্দেহের বশে ইন্দ্রজিৎকে পিটিয়ে মারে উত্তেজিত জনতা। এই ঘটনায় মোট ৩৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
নির্দোষ যুবকের মৃত্যুতে রাজ্য রাজনীতি তোলপাড়। মুখ্যমন্ত্রী দোষীদের কঠোর শাস্তির প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরিবারের পাশে সরকারের থাকার বার্তা দিলেন। প্রশাসনের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ — দ্রুত বিচার ও গুজব-উসকানি রুখে এলাকায় শান্তি ফেরানো।
