“পশ্চিমবঙ্গ দিবসের” সরকারি স্বীকৃতি: ইতিহাসের পুনরুদ্ধার নাকি রাজনৈতিক পুনর্লিখন?
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নিউজ ডেস্ক:- ২০ জুনকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ এবার প্রথমবারের মতো সরকারি মর্যাদায় ব্যাপক আয়োজনের মাধ্যমে পালিত হচ্ছে। কারণ, রাজ্যের গত ৪ মে রাজনৈতিক ক্ষমতার পালাবদলের পর এই দিনটির গুরুত্ব নতুন করে সামনে এসেছে।
বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাকে ‘শ্যামাপ্রসাদের বাংলা’ গড়ার অঙ্গীকার করেছিলেন। নির্বাচনের ফলাফলে বিজেপির বিপুল ভোটে জয়ের পর সেই রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির বাস্তবতা দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করছে শাসক শিবির।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এক্স হ্যান্ডেলের বক্তব্যে সেই রাজনৈতিক বার্তাই স্পষ্ট। তাঁর দাবি, “পূর্ববর্তী সরকার ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির কারণে পশ্চিমবঙ্গ গঠনের ইতিহাস এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকা আড়াল করার চেষ্টা করেছিল”। কিন্তু ইতিহাসকে চিরকাল চাপা রাখা যায় না। বর্তমান সরকার সেই ইতিহাসকে মানুষের সামনে তুলে ধরার উদ্যোগ নিয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দেশভাগের সময় শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের দৃঢ় অবস্থান না থাকলে পশ্চিমবঙ্গ নামে রাজ্যের কোন অস্তিত্বই হয়তো থাকত না।
অন্যদিকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও নিজের এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, “পশ্চিমবঙ্গ দিবসে শুভেচ্ছা জানিয়ে বাংলার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও জাতীয় জীবনে অবদানের কথা স্মরণ করেছেন”। তাঁর মতে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বাংলা তার হারানো গৌরব ও আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার পথে এগিয়ে চলেছে।
তবে এই উদযাপনকে ঘিরে বিতর্কও কম নয়।২০১৪ সালে নাগরিক সমাজের একটি অংশ প্রথম ২০ জুনকে পশ্চিমবঙ্গ দিবস হিসেবে পালন শুরু করে। পরে ২০২১ সাল থেকে বিরোধী নেতা হিসেবে শুভেন্দু অধিকারী নিয়মিত এই দিন পালন করলেও তৎকালীন রাজ্য সরকার অন্য তারিখকে ‘রাজ্য দিবস’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করে। ফলে বিষয়টি ধীরে ধীরে রাজনৈতিক সংঘাতের অন্যতম প্রতীকে পরিণত হয়।আজ পরিস্থিতি বদলেছে। ক্ষমতার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ইতিহাসের ব্যাখ্যাও নতুনভাবে আলোচনায় এসেছে।
