আজকের দিনেবিশ্ব

পাকিস্তানে সংবাদমাধ্যমের কোনও বাক স্বাধীনতা নেই, ইরান ও আমেরিকার চুক্তি নিয়ে প্রকাশ্যে কটাক্ষ ভ্যান্সের 

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা- ইরান ও আমেরিকার মধ্যে মউ চুক্তি স্বাক্ষরের পূর্ণাঙ্গ সূচি প্রকাশ করতে পারছে না পাকিস্তান, তার কারণ ব্যাখ্যা করলেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। এই প্রসঙ্গে ভ্যান্স বলে আমেরিকার মতো ইরানে ও কাতারে সংবাদমাধ্যমের উপরে স্বাধীনতা নেই পাকিস্তানে। ভ্যান্সের এই মন্তব্য পাকিস্তানের উপর নতুন করে অস্বস্তি তৈরি করল। এই পডকাস্টে এইভাবেই বক্তব্য রাখলেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট।

কাতারকে সঙ্গে নিয়ে ইরান ও পাকিস্তানের মধ্যে যে মধ্যস্থাকারী হিসেবে পাকিস্তান কাজ করেছিল, আমেরিকার এই মন্তব্যের পরেই নতুন করে বিড়ম্বনায় পড়ল শরিফ সরকার। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সমঝোতা চুক্তির কথা ঘোষণা করেছিলেন। তার দুদিন পরে মউ চুক্তি স্বাক্ষরের সরকারিনামা প্রকাশিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট ‘ইন্টারেস্টিং টাইমস উইথ রস ডাউথ্যাট’ (Interesting Times with Ross Douthat)  পডকাস্টে কথা বলার সময় ব্যাখ্যা করেন যে, স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগের কারণেই বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করতে ওয়াশিংটনের সময় লেগেছিল। ভ্যান্স বলেন, আমরা আসলে এটি সামনে আনতে চেয়েছিলাম। তবে আমার ধারণা আমার মনে হয়, এখানে দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্যের একটি কারণ হল, পাকিস্তান ও কাতারের ব্যবস্থায় ঠিক যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ‘ফার্স্ট অ্যামেন্ডমেন্ট’ (বাক-স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা প্রদানকারী আইন) বা সংবাদপত্রের স্বাধীনতার মতো বিষয়গুলো সেভাবে নেই। মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনী সরকারকে এমন কোন আইন প্রণয়ন করা থেকে বিরত রাখে যা বাক্‌স্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ করে।

পাকিস্তানে এ ধরনের সাংবিধানিক সুরক্ষা ব্যবস্থা নেই।  তাই (পাকিস্তানে) এমন কোনো প্রত্যাশা নেই যে, আমেরিকান জনগণের সামনে মূল নথিটি তুলে ধরা হবে, যাতে তারা নিজেরা সেটি খুঁটিয়ে দেখতে, বিশ্লেষণ করতে ও বুঝতে পারে। তবে এটি প্রকাশ করা হবে। ডেমোক্র্যাটদের তীব্র সমালোচনা ও প্রতিবাদের মুখে অবশেষে বুধবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের চুক্তির পূর্ণাঙ্গ পাঠ্য প্রকাশ করা হয়। সমালোচকদের ধারণা ছিল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারকের (MoU) বিস্তারিত তথ্য গোপন করছিল কারণ এই চুক্তির আওতায় সংঘাত অবসানের বিনিময়ে ইরানকে হয়তো বড় ধরনের ছাড় দেওয়া হয়েছিল, যে সংঘাত হরমুজ প্রণালীর ওপর তেহরানের কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও অবরোধের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের সংকট সৃষ্টি করেছিল। ভ্যান্সের মন্তব্য পাকিস্তানে বাক্‌স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার চরম অবনতির বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে। ‘বিশ্ব সংবাদপত্রের স্বাধীনতা সূচক’-এ ১৮০টি দেশের মধ্যে পাকিস্তানের অবস্থান ১৫৩তম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *