আজকের দিনেসিলেবাস থেকে

লোক হাসানোর ভয় দূর ! মুখে অনর্গল ইংরেজি দুঃস্থ শিশুদের

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,বেঙ্গালুরু:- খাতায়-কলমে ইংরেজি লিখতে পারলেও, লোক হাসানোর ভয়ে মুখে কুলুপ এঁটে থাকেন অনেকেই। কিন্তু সেই ভয়কে ম্যাজিকের মতো বদলে দিয়েছে ১৭ বছরের এক কিশোরী। বেঙ্গালুরুর এক ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের একাদশ শ্রেণির পড়ুয়া রোশনি গুপ্তার হাত ধরে শুরু হওয়া এক অনন্য সামাজিক উদ্যোগ আজ আন্তর্জাতিক স্তরে সাড়া ফেলে দিয়েছে। এই উদ্যোগের নাম ‘প্রজেক্ট বিদ্যা’

যেভাবে শুরু হলো ‘প্রজেক্ট বিদ্যা’

রোশনি যখন নবম শ্রেণিতে পড়ত, তখনই সে খেয়াল করে যে অনাথ আশ্রম বা সরকারি স্কুলের ছেলেমেয়েরা ইংরেজিতে কথা বলতে ভীষণ ভয় পায়। মনের ভেতরের এই জড়তা কাটাতে এবং তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সে এই বিশেষ প্রজেক্টের সূচনা করে।

বর্তমানে এই প্রজেক্টের ম্যাজিকে ভারত, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE), রুয়ান্ডা, কেনিয়া এবং লেসোথো— এই ৫টি দেশের ১৬০০-র বেশি দুঃস্থ পড়ুয়া এখন অনর্গল ইংরেজিতে কথা বলছে।

শেখানোর ধরণ: ব্যাকরণের জটিলতা নয়, খেলার ছলে গল্প

রোশনি এবং তাঁর দলের লক্ষ্য ইংরেজি ব্যাকরণের কঠিন ও নিরস নিয়ম শেখানো নয়, বরং খেলার ছলে শিশুদের মুখের জড়তা কাটানো:

  • গল্প ও খেলা: এখানে শিশুরা খেলার ছলে গল্প করতে করতে ইংরেজি শেখে।

  • ছবির মাধ্যমে চরিত্র তৈরি: ছবি আঁকার মাধ্যমে শিশুরা নিজেদের পছন্দমতো চরিত্র তৈরি করে এবং সেই চরিত্রগুলো নিয়ে নিজেদের মধ্যে ইংরেজিতে কথা বলে।

তরুণ ভলান্টিয়ারদের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক

রোশনির এই মহৎ উদ্দেশ্যে শামিল হয়েছেন আরও অনেক তরুণ-তরুণী। বর্তমানে এই উদ্যোগে ১৩ থেকে ২৫ বছর বয়সি প্রায় ৪০ জন তরুণ ভলান্টিয়ার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ ও দিল্লির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক স্তরেও ছড়িয়ে পড়েছে এই নেটওয়ার্ক।

পড়াশোনার সুযোগ ও স্কলারশিপের ব্যবস্থা

শুধু ইংরেজি শেখানোই নয়, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সার্বিক উন্নয়নের জন্য আরও কিছু কাজ করছে ‘প্রজেক্ট বিদ্যা’:

  • বই সংগ্রহ ও পাঠাগার: বিভিন্ন আবাসন থেকে বই সংগ্রহ করে প্রায় ৫ হাজার শিশুর কাছে পড়ার সুযোগ পৌঁছে দিয়েছে তারা।

  • স্কলারশিপ: সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ৪২ হাজার টাকা ফান্ড সংগ্রহ করে ২৫ জন দুঃস্থ পড়ুয়ার এক বছরের স্কলারশিপের ব্যবস্থাও করেছে রোশনি।

১৭ বছরের এক কিশোরীর এই উদ্যোগ প্রমাণ করে দিল যে, সদিচ্ছা আর সঠিক পরিকল্পনা থাকলে বয়স কোনো বাধা নয়, অনায়াসেই বদলে দেওয়া যায় হাজারো শিশুর ভবিষ্যৎ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *