তাপস পালের মৃত্যু নিয়ে ফের বোমা ফাটালেন স্ত্রী-মেয়ে, নিশানায় নিজের দল
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা:- ৬ বছর হতে চলল প্রয়াত হয়েছেন তাপস পাল। একসময় ছিলেন দলের অভিনেতা সাংসদ। তাঁর বিতর্কিত মন্তব্য বাঙালির মুখে মুখে ফেরে। মৃত্যুর আগে থেকেই দল এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর সঙ্গে দূরত্ব বাড়িয়েছিলেন এমন অভিযোগ বারংবার করেছেন তাপস পালের স্ত্রী নন্দিনী এবং কন্যা সোহিনী। এমনকী তাপসের মৃত্যুর পরেও যোগাযোগ রাখেনি তৃণমূল এবং দলের সুপ্রিমো, এই অভিযোগও করেছেন তাঁরা। ৪ মে পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে বিজেপির কাছে ধরাশায়ী হয়েছে তৃণমূল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর দলের এই ভরাডুবির পর ফের একবার সরব হয়েছেন তাপস পালের স্ত্রী নন্দিনী ও মেয়ে সোহিনী।
তাপস পালের স্ত্রী নন্দিনী পালের বক্তব্য “দিদি একসময় তাপসকে চোখে হারাতেন, সেটা আমি নিজে দেখেছি। পরে ওনার ১৮০ ডিগ্রি বদলে যাওয়াটাও চোখের সামনে দেখলাম। তাপস শুধু দিদির সঙ্গে একটু কথা বলতে চেয়েছিল। সে তখন স্ট্যান্ডিং এমপি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলেরই সদস্য। অথচ তিনি তার সঙ্গেই দেখা করলেন না। সিপিএমের অপশাসন সরাতে দিদিকে আনা হয়েছিল কারণ উনি ভীষণ মানবিক ছিলেন। কিন্তু পরে বুঝলাম, এর চেয়ে বড় প্রহসন আর হয় না। তাপস খুব আবেগপ্রবণ মানুষ ছিল। ধান্দাবাজ হলে সিপিএমের ওই দাপটের সময়ে ওর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরার দরকারই পড়ত না। ওনার ব্যবহার ছিল চরম অপমানজনক, পুরোপুরি তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যে ভরা।”
মেয়ে সোহিনী পাল বললেন ” “দলে থাকাকালীনই সবটা ঘটেছে। আসলে কী হয়েছিল বলি— বাবার অনেক গুরুত্বপূর্ণ চিঠি আমিই লিখতাম। ২০১৫-র শেষ বা ২০১৬-র শুরুতে বাবার হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে গরু পাচার নিয়ে চিঠি লিখি। বাবা বলেছিলেন, ‘কৃষ্ণনগর থেকে এটা হচ্ছে। আমি তোমার পিসিকে জানাতে চাই। একটা চিঠি লেখো তো।’ না জেনেও অনেক কিছু জানতাম। ওই চিঠিগুলো আমিই লিখেছিলাম। ওনাকে জানানোর পরেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
খারাপ সময়ে যারা ওনার পাশে দাঁড়িয়ে লড়েছিলেন, ভাল সময়ে উনি তাদেরই ভুলে যান।
সবচেয়ে অসহায় লেগেছিল যখন বুঝলাম… রবীন্দ্র সদনে বাবার দেহ যখন রাখা ছিল, উনি এসে বেরিয়ে গেলেন। প্রেসকে বললেন, ‘বিজেপি আমার ভাইকে মেরে ফেলল।’ আমি তো তখন ছিলামও না, পরে শুনেছি। পরে অনেক কিছু দেখলাম, বুঝলাম… বিজেপি বাবাকে মারেনি। বাবা নিজের দলের সাহায্য পাননি। তাই বাবার কষ্ট হয়েছিল।
আগেও বলেছি, মলয় ঘটকের অফিসে আমি বাবার হাত ধরে নিয়ে গিয়েছি। ভিতর থেকে উনি বলেছেন, ‘বলে দাও আমি অফিসে নেই।’ বাবার মন ভাঙতে দেখেছি তখন। সেই সময় তৃণমূল ক্ষমতার শিখরে।
তার মধ্যেও চেষ্টা করেছি সত্যি কথা বলার। একঘরে হয়ে গিয়েছি, অনেক কষ্ট পেয়েছি, একটু ভয়েও ছিলাম।
বাবার সঙ্গে তো উনি দেখা করেননি। বাবা চলে যাওয়ার পর আমরা দেখা করার চেষ্টা করে গিয়েছি। খুব বোকা ছিলাম। ভেবেছিলাম আমরা কী বলতে চাইছি হয়তো শুনবেন। হয়তো কাজের কথা কিছু নয়, বাবাকে হারিয়েছি যে পার্টির জন্য এত কিছু করেছে… হয়তো মনের দুটো দুঃখের কথাই বলতাম। একটা ফোন, একটু কথা শোনা— এটুকু করতে পারতেন।
আমাদের সঙ্গেই যদি এই হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের সঙ্গে না জানি কী হয়… কাল আমরা জবাব পেয়েছি। এটা খুব দরকার ছিল।
