তামিলনাড়ুর সমীকরণে বড় চমক: স্ট্যালিনকে ছেড়ে ‘থলপতি’ বিজয়ের সঙ্গী হাত শিবির!
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, তামিলনাড়ুঃ ক্ষমতার রাজনীতিতে কি তবে ‘বন্ধুত্ব’ কেবলই শব্দমাত্র? তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর জাতীয় রাজনীতির অলিন্দে এখন এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে। বিজেপিকে রুখতে দীর্ঘদিনের পুরনো বন্ধু এম কে স্ট্যালিনের ডিএমকে-র হাত ছেড়ে সুপারস্টার থলপতি বিজয়ের দল ‘তামিলাগা ভেট্রি কাজাগাম’ -কে সমর্থনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিল কংগ্রেস।
তামিলনাড়ুর ভোটের খতিয়ান (মোট আসন: ২৩৪)
বিজয় প্রথমবার নির্বাচনী ময়দানে নেমেই কার্যত ম্যাজিক দেখিয়েছেন। তামিলভূমে একক বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে এসেছে তাঁর দল।
টিভিকে: ১০৮টি আসন (ম্যাজিক সংখ্যা ১১৮ থেকে মাত্র ১০টি কম)।
ডিএমকে-কংগ্রেস জোট: ৭৩টি আসন।
এআইএডিএমকে জোট: ৫২টি আসন।
অন্যান্য (কংগ্রেস ৫, সিপিআই ২, সিপিএম ২, ভিসিকে ২, আইইউএমএল ২): ১৩টি আসন।
কেন স্ট্যালিনকে ত্যাগ করল কংগ্রেস?
কংগ্রেসের সাংগঠনিক সাধারণ সম্পাদক কেসি বেনুগোপাল জানিয়েছেন, বিজেপিকে দাক্ষিণাত্যের ক্ষমতা থেকে দূরে রাখাই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য। তবে এই ডিগবাজির নেপথ্যে রয়েছে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ।
১. অসম্মানের রাজনীতি: তামিলনাড়ুর স্থানীয় কংগ্রেস নেতাদের অভিযোগ, ডিএমকে সরকারে তাঁদের কোনো অংশীদারিত্ব ছিল না। পুরসভা বা উন্নয়ন বোর্ডেও কংগ্রেস নেতাদের গুরুত্ব দেওয়া হতো না।
২. রাহুল গান্ধীর পছন্দ: সূত্রের খবর, স্বয়ং রাহুল গান্ধী প্রথম থেকেই বিজয়ের সঙ্গে জোট করার পক্ষপাতী ছিলেন।
৩. ভবিষ্যৎ আশঙ্কা: কংগ্রেস মনে করছে, এখনই বিজয়কে ‘ইন্ডিয়া’ জোটে না টানলে ভবিষ্যতে বিজেপি তাঁর দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিতে পারে।
কিস্তিমাত বিজয়ের, ব্যাকফুটে ডিএমকে
সূত্রের দাবি, বিজয় নিজেই ভিসিকে, সিপিআই, সিপিএম এবং কংগ্রেসের মতো দলগুলির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কংগ্রেস এই সমর্থন দেওয়ার বদলে নতুন সরকারে দুটি মন্ত্রিত্ব দাবি করতে পারে। যদি এই ছোট দলগুলি বিজয়ের পাশে দাঁড়ায়, তবে অনায়াসেই ১১৮-র গণ্ডি পার করে ফেলবেন ‘থলপতি’।
“পিঠে ছুরি মারা হয়েছে”: ক্ষুব্ধ ডিএমকে
কংগ্রেসের এই সিদ্ধান্তে কার্যত অগ্নিশর্মা স্ট্যালিনের দল। ডিএমকে-র এক মুখপাত্রের বয়ানে স্পষ্ট ধরা পড়েছে সেই যন্ত্রণা, “খারাপ সময়ে আমরা সবসময় কংগ্রেসের পাশে থেকেছি। আর আজ ক্ষমতার জন্য কংগ্রেস আমাদের পিঠে ছুরি মারল। বিজয় কোনোদিন মোদি বা বিজেপির বিরুদ্ধে টুঁ শব্দ করেননি, তাঁর সঙ্গে কংগ্রেসের জোট হওয়া দুর্ভাগ্যজনক।” তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে কয়েক দশক ধরে রাজত্ব করা দ্রাবিড় আবেগ কি এবার দুই মেরু থেকে সরে বিজয়ের নতুন ধারায় মিশে যাবে? কংগ্রেসের এই ‘মাস্টারস্ট্রোক’ শেষ পর্যন্ত বিজেপির প্রবেশপথ বন্ধ করতে পারে কি না, এখন সেটাই দেখার।
