এবার থেকে এলিফ্যান্ট ক্যাম্পে জারি ৫ নিয়ম
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নিউজ ডেস্ক:- কর্নাটকের কোডাগু জেলার বিখ্যাত পর্যটন কেন্দ্র ‘দুবারে এলিফ্যান্ট ক্যাম্প’-এ ঘটে গেল এক হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা। সোমবার, কাবেরী নদীতে হাতিদের স্নান করানোর দৃশ্য উপভোগ করছিলেন পর্যটকেরা। দুর্ভাগ্যবশত, দুটি কুনকি হাতির আকস্মিক সংঘর্ষের আকস্মিক লড়াইয়ের মাঝে পড়ে পিষে মৃত্যু হলো তামিলনাড়ুর চেন্নাই থেকে আসা ৩৩ বছর বয়সী এক মহিলা পর্যটকের।
কীভাবে ঘটল এই দুর্ঘটনা?
বন দফতর ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, কাঞ্চন এবং মার্তণ্ড নামের দুটি কুনকি হাতির স্নান-পর্ব চলাকালীন আচমকাই তাদের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। কাঞ্চনের প্রচণ্ড ধাক্কায় মার্তণ্ড ভারসাম্য হারিয়ে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা পর্যটক তুলসীর উপর উল্টে পড়ে। হাতির বিশাল শরীরের নীচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ওই মহিলার। তবে পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা তাঁর স্বামী ও সন্তান কোনওমতে প্রাণে বেঁচে যান।
নড়েচড়ে বসল কর্নাটক সরকার: জারি হলো ৫টি কড়া নিয়ম
এই মর্মান্তিক ঘটনার পর গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন রাজ্যের অরণ্য ও পরিবেশমন্ত্রী। তিনি জানান, বন্যপ্রাণী যতই প্রশিক্ষিত হোক না কেন, তাদের আচরণ অনুমান করা অসম্ভব। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬ থেকে কর্নাটকের সমস্ত এলিফ্যান্ট ক্যাম্পে নতুন স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিয়র বা ৫টি কড়া নিয়ম বাধ্যতামূলক করা হয়েছে:
-
১০০ ফুটের দূরত্ব বজায় রাখা : হাতিদের স্নান করানো বা অন্যান্য দৈনিক কাজ দেখার সময় পর্যটকদের অন্তত ১০০ ফুট দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। নির্দিষ্ট নিরাপদ ‘ভিউয়িং জ়োন’ থেকেই কেবল হাতি দেখা যাবে। নির্দিষ্ট ভিউয়িং জ়োন বা নিরাপদ দূরত্ব থেকেই কেবল হাতি দেখা যাবে।
-
সেলফি বা ছবি তোলায় নিষেধাজ্ঞা: হাতিদের ঠিক পাশে দাঁড়িয়ে বা খুব কাছ থেকে সেলফি ও ফোটোগ্রাফি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
-
হাতিকে স্নান করানো বন্ধ : দুবারে ক্যাম্পের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল নদীতে নেমে হাতিদের গা স্ক্রাব করা বা স্নান করানো। নতুন নিয়মে পর্যটকদের হাতি স্নান করানোর প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হলো।
-
শুঁড় বা শরীর স্পর্শ না করা: কোনও অবস্থাতেই হাতির সামনে গিয়ে তার শুঁড় বা শরীর স্পর্শ করা যাবে না। অতিরিক্ত উৎসাহে বন্যপ্রাণীর কাছে যাওয়া আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ বলে গণ্য হবে।
-
হাত দিয়ে খাবার খাওানো নিষিদ্ধ : পর্যটকরা আর নিজেদের হাতে করে হাতিদের কলা, গুড় বা আখের মতো কোনও খাবার খাওয়াতে পারবেন না। সরাসরি খাবার খাওানোর সময় হাতিরা উত্তেজিত হয়ে পড়ে বলেই এই নিষেধাজ্ঞা।
