আইএসসি-তে সর্বভারতীয় টপার বাংলার অনুষ্কা ঘোষ
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,বারাকপুর: সিলেবাসের চাপে না পিষ্ট হয়ে নিজের আনন্দ খুঁজে নিয়ে পড়াশোনা— জেন-জি প্রজন্মের হাত ধরে এভাবেই বদলাচ্ছে মেধার সংজ্ঞা। ২০২৬ সালের আইসিএসই ও আইএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হলো বৃহস্পতিবার। আর সেই ফলাফলেই জয়জয়কার বাংলার মেয়েদের। চারশোয় ৪০০ নম্বর পেয়ে আইএসসি-তে সর্বভারতীয় স্তরে প্রথম স্থান অধিকার করল বাংলার মেয়ে অনুষ্কা ঘোষ।
আইএসসি ২০২৬: নজরকাড়া পরিসংখ্যান
এবারের আইএসসি পরীক্ষায় মোট পাশের হার ৯৯.১৩ শতাংশ। বরাবরের মতো এবারও ছাত্রদের টেক্কা দিয়েছে ছাত্রীরা।
-
ছাত্রীদের পাশের হার: ৯৯.৪৮ শতাংশ
-
ছাত্রদের পাশের হার: ৯৮.৮১ শতাংশ
মেধাতালিকার শীর্ষে উজ্জ্বল নাম পানিহাটি সেন্ট জেভিয়ার্সের ছাত্রী অনুষ্কা। চারশোয় চারশো পেয়ে ইতিহাস গড়ল বারাকপুরের এই কিশোরী।
জ্বর নিয়ে পরীক্ষা, আক্ষেপ মিটল ফুল মার্কসে
সাফল্যের শিখরে উঠেও পা মাটিতেই রয়েছে অনুষ্কার। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সে অকপটে জানাল নিজের উদ্বেগের কথা। অনুষ্কার কথায়, “কাল রাত থেকেই খুব টেনশনে ছিলাম। পরীক্ষার সময় শরীরটা খুব খারাপ ছিল, জ্বর নিয়ে ইংরেজি পরীক্ষা দিয়েছি। তাই মনে হচ্ছিল কেমন হবে রেজাল্ট। দশম শ্রেণিতে ইংরেজিতে ২ নম্বর কম পাওয়ায় একটু আক্ষেপ ছিল, এবার ফুল মার্কস পেয়ে সেই আক্ষেপ মিটে গেল।”
সাফল্যের নেপথ্যে: মা, শিক্ষক এবং ‘নিবিড় পরিশ্রম’
নিজের এই বিশাল সাফল্যের কৃতিত্ব স্কুলের শিক্ষক এবং মা-কে দিয়েছে অনুষ্কা। তবে বারবার একটি শব্দের ওপর জোর দিয়েছে সে— ‘পরিশ্রম’। অনুষ্কার কথায়: “আমার এক শিক্ষক বলেছিলেন, মেধাবীদের চেয়ে পরিশ্রমীদের কদর বিশ্বে বেশি। সেই কথাটা মাথায় গেঁথে নিয়েছি। পরিশ্রম করলে সাফল্যের আনন্দও বেশি হয়।” পড়াশোনার কোনো ধরাবাঁধা সময় ছিল না তাঁর। যতক্ষণ বাড়িতে থাকত, পড়াশোনার মধ্যেই কাটত সময়। তবে ক্লান্তি কাটাতে সে বেছে নিয়েছে সৃজনশীলতার পথ। অষ্টাদশী অনুষ্কা কবিতা লিখতে খুব ভালোবাসে। ইদানিং নিজের লেখনী শক্তি বাড়াতে গল্পের দিকেও মন দিয়েছে সে।
ভবিষ্যৎ লক্ষ্য: ইঞ্জিনিয়ারিং
ভবিষ্যতে কী হতে চায় বাংলার টপার? অনুষ্কা জানিয়েছে, সে ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়তে চায় এবং সেই অনুযায়ী প্রস্তুতিও শুরু করে দিয়েছে। অষ্টাদশী বঙ্গকন্যার এই সাফল্যে খুশির হাওয়া বারাকপুর জুড়ে। পড়াশোনার পাশাপাশি নিজের শখকে বাঁচিয়ে রেখে যে সাফল্যের শিখরে পৌঁছানো যায়, অনুষ্কা ঘোষ আজ তার জীবন্ত উদাহরণ। অভিনন্দন অনুষ্কা!
