আজকের দিনেতিলোত্তমা

নিউ গড়িয়ায় বিজেপি এজেন্টের অফিসে ভাঙচুর, বেহালায় আক্রান্ত তৃণমূল

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,কলকাতা: দ্বিতীয় দফার ভোট মিটতে না মিটতেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল শহর কলকাতা। বুধবার রাতের অঝোর বৃষ্টির মধ্যেই খাস কলকাতায় দফায় দফায় চলল রাজনৈতিক সংঘর্ষ। বেহালার পর এবার নিউ গড়িয়ার পঞ্চসায়র এলাকায় বিজেপি পোলিং এজেন্টের অফিস ভাঙচুরের অভিযোগ উঠল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। পাল্টা বেহালায় তৃণমূল কর্মীদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে।

নিউ গড়িয়ায় বিজেপির অফিসে তাণ্ডব

যাদবপুর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত নিউ গড়িয়ার পঞ্চসায়র এলাকায় ১৫৩ নম্বর বুথের বিজেপি পোলিং এজেন্টের অফিসে বুধবার রাতে হামলা চালানো হয়। অভিযোগ, একদল দুষ্কৃতী তাঁর নির্মাণকারী সংস্থার অফিসে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়।

  • ক্ষয়ক্ষতি: অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়ির কাচ ভেঙে চুরমার করে দেওয়া হয়। প্রমাণ লোপাটের জন্য সিসিটিভি ক্যামেরাও খুলে নিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা।

  • বিজেপির দাবি: খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছান যাদবপুরের বিজেপি প্রার্থী শর্বরী মুখোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেন, তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরাই এই ঘটনা ঘটিয়েছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

  • তৃণমূলের পাল্টা: এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে তৃণমূল নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, “সংবাদমাধ্যমে হাওয়া গরম করে লাভ নেই। বিজেপি ৪ তারিখ (ফল প্রকাশ) পর্যন্ত অপেক্ষা করুক।”

বেহালায় আক্রান্ত বিদায়ী কাউন্সিলর

অন্যদিকে, বুধবার রাতেই রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় বেহালা পশ্চিমের রবীন্দ্রনগরের রামকৃষ্ণ পল্লী। সেখানে তৃণমূলের একটি দলীয় কার্যালয়ে কর্মীরা বসে থাকাকালীন আচমকা ইট ও বাঁশ নিয়ে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ।

  • মারধর: পরিস্থিতি সামাল দিতে ১২৯ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর তথা তৃণমূলের রাজ্য সাংগঠনিক সম্পাদক অঞ্জন দাস ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাঁকেও ব্যাপক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।

  • অভিযোগের তির: তৃণমূলের দাবি, বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরাই এই হামলার নেপথ্যে রয়েছে। এলাকায় উত্তেজনা থাকায় মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ বাহিনী।

সরগরম রাজনৈতিক ময়দান

কলকাতার এই দুই প্রান্তে রাজনৈতিক সংঘর্ষের ঘটনায় ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ভোট মিটলেও যেভাবে দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়াচ্ছে, তাতে ৪ মে ফলাফল ঘোষণার দিন নিয়ে আশঙ্কায় রয়েছেন সাধারণ মানুষ। যদিও পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে টহলদারি বাড়ানো হয়েছে।

ভোট পরবর্তী এই হিংসা নিয়ে একে অপরকে দোষারোপে সরব হয়েছে দুই শিবিরই। এখন দেখার, ৪ মে-র আগে কলকাতার এই উত্তাপ আর কতটা বৃদ্ধি পায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *