নজিরবিহীনভাবে রাজ্যে কারা প্রধান নিয়োগ করল ইসিআই
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা: লোকসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই নজিরবিহীন সক্রিয়তা দেখাল ভারতের নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে রদবদলের পাশাপাশি এবার সরাসরি কারা দফতরের ডিরেক্টর জেনারেল পদে নিয়োগ করল কমিশন। ১৯৯১ ব্যাচের আইপিএস অফিসার নটরাজন রমেশ বাবুকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
ভোটের আবহে সাধারণত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ সুপার বা কমিশনার পদে রদবদল দেখা গেলেও, কারা প্রশাসনে কমিশনের এই সরাসরি হস্তক্ষেপকে ঘিরে প্রশাসনিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
প্রশাসনিক সূত্র এবং কমিশন সূত্রে এই সিদ্ধান্তের পিছনে মূলত দুটি বড় কারণ উঠে আসছে, ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার ঠিক পরেই রাজ্যের তৎকালীন কারা প্রধান সিদ্ধিনাথ গুপ্তাকে রাজ্য পুলিশের ডিজি হিসেবে সরিয়ে নিয়েছিল কমিশন। ফলে কারা দফতরের শীর্ষ পদটি খালি হয়ে যায়। বিগত কয়েক বছর ধরে কমিশনের কাছে বারবার অভিযোগ জমা পড়েছে যে, নির্বাচনের ঠিক আগে জেল থেকে অনেক দাগি অপরাধীকে প্যারোলে বা অন্য উপায়ে ছেড়ে দেওয়া হয়, যারা ভোটের সময় অশান্তি ছড়াতে সাহায্য করে। সম্প্রতি ফুল বেঞ্চের বঙ্গ সফরেও এই অভিযোগটি গুরুত্ব সহকারে আলোচিত হয়েছিল।
নটরাজন রমেশ বাবুকে এই পদে বসানো নিয়েও নতুন সমীকরণ দেখছে ওয়াকিবহাল মহল। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময়ও বিধাননগরের পুলিশ কমিশনার হিসেবে তাঁর ওপর আস্থা রেখেছিল নির্বাচন কমিশন। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে তাঁকে কারা দফতরের মতো স্পর্শকাতর বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া কার্যত কমিশনের কঠোর বার্তারই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে মুখ্যসচিব থেকে শুরু করে একের পর এক আইপিএস বদল নিয়ে সরব হয়েছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। তাঁদের দাবি, রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোয় এভাবে হস্তক্ষেপ করে যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামোয় আঘাত করা হচ্ছে। তবে কমিশনের লক্ষ্য স্পষ্ট— জেলের ভেতর থেকে বা জেল থেকে বেরিয়ে কোনোভাবেই যাতে ভোট প্রক্রিয়া প্রভাবিত না হয়, তা নিশ্চিত করা।
