আজকের দিনেভারত

মাটিতে জীবন্ত পুঁতে রাখা হয়েছিল সদ্যোজাতকে! স্কুলপড়ুয়াদের তৎপরতায় অলৌকিক প্রাণরক্ষা মেঘালয়ে

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,শিলং: মানবতার চরম অবক্ষয় নাকি অন্য কোনো নিষ্ঠুরতা? মেঘালয়ের রি-ভোই জেলায় মাটির নিচ থেকে এক সদ্যোজাতকে জীবন্ত অবস্থায় উদ্ধারের ঘটনা ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। কয়েকজন স্কুলপড়ুয়ার উপস্থিত বুদ্ধি এবং সাহসিকতার জোরে যমে-মানুষের লড়াইয়ে শেষমেশ জয়ী হলো একরত্তি প্রাণ।

ঘটনার বিবরণ

রি-ভোই জেলার মাওহাটি এলাকায় বৃহস্পতিবার সকালে এই হাড়হিম করা ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েকজন স্কুলপড়ুয়া ওই এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় মাটির নিচে অস্বাভাবিক কিছু লক্ষ্য করে। সন্দেহ হওয়ায় তারা মাটি সরাতেই দেখতে পায় একটি সদ্যোজাত শিশুকে সেখানে জীবন্ত পুঁতে রাখা হয়েছে। দেরি না করে পড়ুয়ারা শিশুটিকে উদ্ধার করে তড়িঘড়ি মাওহাটি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যায়।

 আইসিইউ-তে শিশুটি

সদ্যোজাতর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসকরা প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে নংপোর সিভিল হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। হাসপাতাল সূত্রে খবর:

  • শিশুটি বর্তমানে আইসিইউ-তে চিকিৎসাধীন।

  • তাকে কড়া নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

  • সময়মতো স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে আসায় এবং পড়ুয়ারা দ্রুত পদক্ষেপ করায় শিশুটির প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

ভিডিও ভাইরাল, তদন্তে পুলিশ

ঘটনাটি জানাজানি হতেই সোশাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে (যার সত্যতা যাচাই করেনি কিউ ইন্ডিয়া বাংলা), যেখানে শিশুটিকে উদ্ধার করার মুহূর্ত ধরা পড়েছে। এই অমানবিক ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছে গোটা এলাকা।

  • পুলিশি পদক্ষেপ: মেঘালয় পুলিশ এই ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে একটি মামলা রুজু করেছে।

  • তদন্তের গতি: কোন পরিস্থিতিতে এবং কারা এই জঘন্য কাজ করেছে, তা জানতে স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ভাইরাল ভিডিওটি খতিয়ে দেখে দোষীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে তদন্তকারীরা।

মাটির তলা থেকে শিশুকে উদ্ধার করার মতো এই অলৌকিক ঘটনায় স্কুলপড়ুয়াদের কুর্নিশ জানাচ্ছে খাসিয়া পাহাড়ের বাসিন্দারা। তবে কে বা কারা নিজের সন্তানকে এভাবে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিল, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ। বর্তমানে শিশুটির অবস্থা স্থিতিশীল করার চেষ্টায় আপ্রাণ লড়াই চালাচ্ছেন চিকিৎসকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *