নিয়োগ দুর্নীতি: ১৫ মিনিটের ‘গোপন অডিও’ হাতে পেয়েই অ্যাকশনে ED, অভিষেককে ম্যারাথন জেরা
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতাঃ প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে এবার ইডির হাতে এল এক বিস্ফোরক তথ্য, যা কার্যত এই মামলার ‘তুরুপের তাস’ হতে চলেছে। চাকরি বিক্রি এবং ঘুষের কোটি কোটি টাকা কার অ্যাকাউন্টে ঢুকেছিল, তার উৎস খুঁজতে গিয়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারীদের নজরে আসে একটি ১৫ মিনিটের অডিও রেকর্ডিং। আর সেই রেকর্ডিংয়ের সূত্র ধরেই আজ, সোমবার বেলা ১১টা থেকে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে ম্যারাথন জেরা করা হলো তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। ইডির তৃতীয় অতিরিক্ত চার্জশিটে এই বিশেষ অডিও রেকর্ডিংয়ের উল্লেখ রয়েছে, যা এখন এই তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে।
২০১৭ সালের বেহালার সেই ‘গোপন বৈঠক’
ইডি সূত্রে খবর, ২০১৭ সালে ‘কালীঘাটের কাকু’ ওরফে সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রের বেহালার বাড়িতে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়েছিল। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কুন্তল ঘোষও। অভিযোগ, ওই বৈঠকেই চাকরি বিক্রির কোটি কোটি টাকার ভাগ-বাঁটোয়ারা এবং কমিশনের অঙ্ক নিয়ে নিজেদের মধ্যে তীব্র বচসা ও ঝগড়াঝাটি শুরু হয়। আর সেই কথোপকথনের মধ্যেই একাধিকবার উঠে আসে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম। শুধু তাই নয়, নাম জড়ায় তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়েরও।
টাকার অঙ্ক শুনে চক্ষু চড়কগাছ তদন্তকারীদের
ইডি সূত্রে জানা যাচ্ছে, ওই ১৫ মিনিটের অডিও রেকর্ডিংয়ে শোনা গিয়েছে যে, অযোগ্য প্রার্থীদের চাকরি দেওয়ার বিনিময়ে পার্থ চট্টোপাধ্যায় নাকি সুজয়কৃষ্ণের কাছে ১৫ কোটি টাকা দাবি করেছিলেন। অন্যদিকে, ‘কালীঘাটের কাকু’ চাকরিপ্রার্থীদের থেকে বাজার থেকে মোট ১০০ কোটি টাকা তোলার ছক কষেছিল। আর এই ১০০ কোটি টাকা তোলার ‘গুরুদায়িত্ব’ দেওয়া হয়েছিল কুন্তল ঘোষ ও শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়কে। পরিকল্পনা ছিল, এই সংগৃহীত ১০০ কোটির মধ্যে ২০ কোটি টাকা সরাসরি পৌঁছে দেওয়া হবে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের তৎকালীন সভাপতি মানিক ভট্টাচার্যকে।
কণ্ঠস্বরের ফরেনসিক রিপোর্ট আসতেই তৎপরতা
প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডি ইতিমধ্যেই সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র, শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কুন্তল ঘোষকে গ্রেপ্তার করেছে। হেফাজতে থাকাকালীনই তদন্তকারীদের হাতে আসে এই বিতর্কিত অডিও ক্লিপটি। রেকর্ডিংয়ে থাকা কণ্ঠস্বর সুজয়কৃষ্ণেরই কি না, তা নিশ্চিত করতে তাঁর কণ্ঠস্বরের নমুনা বা ‘ভয়েস স্যাম্পল’ পরীক্ষার জন্য ভিনরাজ্যের কেন্দ্রীয় ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হয়েছিল।
সূত্রের খবর, সেই ফরেনসিক রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরেই অডিও রেকর্ডিংয়ের সত্যতা যাচাই করতে এবং ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ সংস্থার আর্থিক লেনদেনের যোগসূত্র মেলাতে আজ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তলব করে জেরা করেন তদন্তকারীরা। দীর্ঘ তিন ঘণ্টার এই জিজ্ঞাসাবাদে কী কী নতুন তথ্য উঠে এল, এবং এই তদন্তের আঁচ এবার কার দিকে ঘোরে, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
