খান স্যারের কোচিং হামলায় অভিযুক্তের দেহ মিলল নেপালে, ঘনীভূত রহস্য
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, বিহার: বিহারের রাজধানী পাটনার জনপ্রিয় শিক্ষক ‘খান স্যার’ এবং ‘রৌশন স্যারের’ দীর্ঘদিনের সংঘাতের মাঝেই সামনে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। খান স্যারের কোচিং সেন্টারে হামলার মামলার অন্যতম অভিযুক্ত প্রিন্স যাদবের মৃতদেহ নেপালের বিরাটনগরের একটি হোটেল থেকে উদ্ধার হয়েছে। এই ঘটনায় নতুন করে শুরু হয়েছে জল্পনা, প্রশ্ন উঠছে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়েও।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি পাটনার মুসাল্লাহপুর হাট এলাকায় অবস্থিত ‘খান গ্লোবাল স্টাডিজে’ হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় প্রিন্স যাদবের নাম উঠে আসে। অভিযোগ, ঘটনার পর গ্রেফতারির আশঙ্কায় তিনি কয়েকজন বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে নেপালের বিরাটনগর-এ একটি হোটেলে চলে যান এবং সেই হোটেলেই অবস্থান করার সময় রহস্যজনকভাবে তাঁর মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে প্রিন্সের পরিবারের সদস্যরা নেপালে পৌঁছানোর প্রস্তুতি নিয়েছেন। অন্যদিকে ঘটনার তদন্তে নেমে নেপাল পুলিশ ৫ জনকে জিজ্ঞাসাবাদও শুরু করেছে।
এই মৃত্যু ঘিরে আলোচনার অন্যতম কারণ হল প্রিন্স যাদবের পরিচয়। তিনি পাটনার পরিচিত শিক্ষক রৌশন আনন্দের ভাই। বিগত কয়েক বছর ধরে খান স্যারের স্টাফদের উপর হামলা এবং কোচিং-এ বোমা মারার মাস্টারমাইন্ড ছিলেন রৌশন স্যার। ২০২১ সালে খান স্যারের ক্লাসরুমে ঢুকে তান্ডব চালান দুষ্কৃতীরা এবং হিংসা ছড়ানোর মূল অভিযোগ ছিল মৃত প্রিন্সের বিরুদ্ধেই।ফলে এই মৃত্যুর সঙ্গে চলমান কোচিং-সংঘাতের কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠছে।
খান স্যার ও রৌশন স্যারের বিবাদ অবশ্য আজকের নয়। গত কয়েক বছর ধরে দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলে এসেছে। কখনও কোচিং সেন্টারে হামলা, কখনও কর্মীদের ওপর আক্রমণ, আবার কখনও ছাত্রছাত্রীদের সামনে প্রকাশ্যে তর্কাতর্কি—সব মিলিয়ে এই বিরোধ বহুবার সংবাদ শিরোনামে উঠে এসেছে। ২০২১ সালে খান স্যারের প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনায়ও প্রিন্স যাদবের নাম সামনে এসেছিল বলে জানা যায়। এর পাল্টা অভিযোগে রৌশন স্যারের দাবি, ২০২৩ সালে তার সেন্টারেও ভাঙচুর চালায় দুষ্কৃতীরা।
তদন্তকারীদের মতে, এই বিরোধের অন্যতম বড় কারণ ছিল বিহার পুলিশ নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফলকে কেন্দ্র করে কৃতিত্বের লড়াই। পরীক্ষায় সফল ছাত্রদের নিজেদের প্রতিষ্ঠানের ছাত্র বলে দাবি করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। এমনকি মেধাবী ছাত্রদের নিয়ে প্রতিযোগিতা এবং আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও একে অপরের বিরুদ্ধে তুলেছিল দুই শিবির।প্রিন্স যাদবের আকস্মিক মৃত্যুর ফলে এই বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। তাঁর মৃত্যু স্বাভাবিক নাকি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা এখন তদন্তের বিষয়। নেপাল পুলিশের তদন্ত রিপোর্ট এবং ময়নাতদন্তের ফলাফল প্রকাশের পরই এই রহস্যের জট কিছুটা খুলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
