ফেরার সুশান্ত ঘোষ! ওড়িশা সীমানায় কাউন্সিলরের পরিবার-সহ গাড়ি আটকাল পুলিশ, চালক গ্রেপ্তার
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা:- তোলাবাজির অভিযোগে ফেরার তৃণমূল কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষকে খুঁজছে পুলিশ। শুক্রবার ওড়িশা সীমানার দিকে যাওয়ার পথে নাকা তল্লাশিতে ধরা পড়ল তাঁর গাড়ি। পুলিশ সূত্রে খবর, গাড়িতে ছিলেন কাউন্সিলরের পরিবারের সদস্যরা। ঘটনায় গাড়ির চালককে আটক করেছে পুলিশ।
কলকাতার ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষের বিরুদ্ধে গত ১ জুন আনন্দপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন এলাকার একাধিক হকার। অভিযোগপত্রে তাঁরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে কাউন্সিলর ও তাঁর ঘনিষ্ঠরা দোকান পিছু মাসোহারা হিসেবে মোটা অঙ্কের টাকা তুলতেন। টাকা না দিলে দোকান ভাঙচুর, মালপত্র ফেলে দেওয়া এমনকি মারধরের হুমকিও দেওয়া হত। বাধ্য হয়ে হকাররা একজোট হয়ে থানার দ্বারস্থ হন। অভিযোগ দায়েরের পরই গা ঢাকা দেন সুশান্ত ঘোষ। আনন্দপুর থানা তাঁর বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে। এরপরই জারি হয় ফেরার নোটিস। পুলিশ জানিয়েছে, সুশান্ত ঘোষকে ধরতে কলকাতা ও শহরতলির বিভিন্ন প্রান্তে তল্লাশি চলছে। রেল স্টেশন, বাস টার্মিনাস ও রাজ্যের সীমানা এলাকায় বিশেষ নাকা চেকিং বসানো হয়েছে। তাঁর মোবাইল ফোনের টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করেও খোঁজ চলছে। এরই মধ্যে শুক্রবার সকালে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ওড়িশা যাওয়ার জাতীয় সড়কে নাকা তল্লাশি জোরদার করে পুলিশ। বেলা ১১টা নাগাদ খড়গপুরের কাছে একটি বিলাসবহুল SUV গাড়িকে সন্দেহ হওয়ায় থামায় পুলিশ। গাড়ির নম্বর মিলিয়ে দেখা যায়, সেটি কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষের নামে রেজিস্টার্ড।
তল্লাশি চালিয়ে দেখা যায়, গাড়ির ভিতরে রয়েছেন সুশান্ত ঘোষের স্ত্রী, ছেলে এবং শাশুড়ি। সঙ্গে বেশ কয়েকটি ব্যাগ ও নগদ টাকাও ছিল বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। তবে গাড়িতে কাউন্সিলর নিজে ছিলেন না। জিজ্ঞাসাবাদে পরিবারের সদস্যরা জানান, চিকিৎসার জন্য তাঁরা ভুবনেশ্বরে যাচ্ছিলেন। কিন্তু পুলিশের সন্দেহ, ফেরার সুশান্ত ঘোষকে ওড়িশায় পৌঁছে দিতেই এই যাত্রা। ঘটনাস্থল থেকেই গাড়ির চালককে আটক করে আনন্দপুর থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। পুলিশের দাবি, চালককে জেরা করে সুশান্ত ঘোষের বর্তমান অবস্থান জানার চেষ্টা চলছে। গাড়িতে থাকা ব্যাগ ও নগদ টাকার উৎসও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরিবারের সদস্যদেরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোটিস পাঠানো হতে পারে।
আনন্দপুর থানার এক আধিকারিক জানান, “সুশান্ত ঘোষের বিরুদ্ধে আমাদের কাছে যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ আছে। যখনই যেখানে খোঁজ মিলবে, সঙ্গে সঙ্গে গ্রেপ্তার করা হবে। রাজ্য ছেড়ে পালানোর সব রাস্তা আমরা বন্ধ করে দিচ্ছি।”
১ জুন হকারদের অভিযোগের পর থেকেই বেপাত্তা ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষ। পরিবারের ওড়িশা যাত্রা ও চালক আটক হওয়ায় তদন্তে গতি এসেছে। পুলিশের অনুমান, রাজ্য ছেড়ে পালাতেই মরিয়া হয়ে উঠেছেন ফেরার কাউন্সিলর। তবে সীমানা সিল করে দেওয়ায় তাঁর গ্রেপ্তারি এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা বলেই মনে করছে আনন্দপুর থানা।
