৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের অবসান: স্বস্তিতে ভারত, মধ্যপ্রাচ্যে ফিরছে শান্তি?
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, দীর্ঘ ৪০ দিনের বিধ্বংসী সংঘাতের পর অবশেষে স্তব্ধ হলো কামানের গর্জন। বুধবার ভোরে আমেরিকা ও ইজরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে শান্তির বার্তাকে স্বাগত জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে ভারতের বিদেশমন্ত্রক। ভারতের স্পষ্ট বার্তা— দীর্ঘমেয়াদি শান্তি স্থাপন এবং কূটনৈতিক আলাপ-আলোচনাই সংকটের একমাত্র সমাধান।
ভারতীয় সময় অনুযায়ী, বুধবার ভোরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে এই যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করেন। প্রাথমিক চুক্তি অনুযায়ী:আগামী ১৪ দিন আমেরিকা ইরানে কোনো সামরিক অভিযান চালাবে না। জবাবে ইরান শর্তসাপেক্ষে রণকৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী মুক্ত করে দেবে। মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধের প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছে ভারতের অর্থনীতিতে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় গত কয়েক সপ্তাহে ভারতে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানিতে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছিল, যার ফলে দেশজুড়ে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। বিদেশমন্ত্রকের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, “ভারত সবসময়ই যুদ্ধের বিরুদ্ধে এবং আলোচনার পক্ষে। আমরা আশা করি, এই সংঘর্ষবিরতির ফলে হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল দ্রুত স্বাভাবিক হবে।” উল্লেখ্য, প্রায় ২০টি ভারতীয় জাহাজ ওই এলাকায় আটকে রয়েছে বলে খবর। ১৪ দিনের এই বিরতির মধ্যেই সেগুলিকে নিরাপদ স্থানে ফিরিয়ে আনা এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হলেও ঝুঁকি নিতে নারাজ নয়াদিল্লি। ইরানে নিযুক্ত ভারতীয় দূতাবাসের তরফ থেকে একটি জরুরি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, পরিস্থিতির অনিশ্চয়তার কথা মাথায় রেখে ইরানে অবস্থানরত সমস্ত ভারতীয় নাগরিক যেন দ্রুত সে দেশ ত্যাগ করেন। যদিও এই যুদ্ধবিরতি বিশ্বজুড়ে স্বস্তি এনেছে, কিন্তু প্রশ্ন উঠছে ১৪ দিন পর কী হবে? ১৪ দিনের এই মেয়াদ ফুরানোর পর মধ্যপ্রাচ্য আবার যুদ্ধের আগুনে পুড়বে, নাকি স্থায়ী কোনো সমাধান আসবে— তা নিয়ে যথেষ্ট উদ্বেগ রয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। আপাতত ভারতসহ গোটা বিশ্বের নজর এখন হরমুজ প্রণালীর বাণিজ্যিক গতিপথের দিকে।
