আজকের দিনেতিলোত্তমা

মঙ্গলবারই বিজেপির প্রথম দফার প্রার্থী তালিকা?

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা: রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতেই কোমর বেঁধে ময়দানে নামল বঙ্গ বিজেপি। রবিবার সন্ধ্যায় সল্টলেকের দলীয় কার্যালয়ে এক জরুরি বৈঠকে বসেন শুভেন্দু অধিকারী, সুকান্ত মজুমদার, শমীক ভট্টাচার্যরা। ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক ভূপেন্দ্র যাদব ও সুনীল বনশল। দলীয় সূত্রে খবর, দিল্লিতে ইতিমধ্যেই ১৫৫টি আসনের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে। বাকি ১৩৯টি আসন নিয়ে আজ, সোমবার ফের বৈঠকে বসবে নেতৃত্ব। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী মঙ্গলবারই প্রথম দফার তালিকা প্রকাশ করতে পারে বিজেপি।

​প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, শুভেন্দু অধিকারী, দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পল এবং শংকর ঘোষের মতো শীর্ষ নেতাদের আসন নিয়ে কোনো জটিলতা নেই এবং তাঁদের নাম চূড়ান্ত তালিকায় রয়েছে। রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, দলের পুরনো বিধায়কদের প্রায় সকলেই পুনরায় টিকিট পাচ্ছেন। তবে ব্যতিক্রম হিসেবে খড়গপুরের বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের টিকিট বাদ যাওয়ার সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে।
​পূর্ব মেদিনীপুর জেলার নির্বাচনী রণকৌশল ও প্রার্থী চয়ন কার্যত শুভেন্দু অধিকারীর হাতেই ছেড়েছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সূত্র মারফত খবর-
​কাঁথি: শুভেন্দুর ভাই দিব্যেন্দু অধিকারী প্রার্থী হতে পারেন।
​চণ্ডীপুর: প্রার্থী হিসেবে নাম উঠে আসছে শঙ্কুদেব পন্ডার।
​তমলুক: প্রাক্তন বিধায়কের পুত্র এক চিকিৎসকের নাম প্রায় নিশ্চিত।
​হলদিয়া: আইটি সেলের এক নেতাকে প্রার্থী করা নিয়ে জেলা স্তরে এবং সংঘ পরিবারের মধ্যে কিছুটা অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
​​পাহাড়ের রাজনীতিতে এখনও কিছুটা ধোঁয়াশা বজায় রেখেছে বিজেপি। কার্শিয়াং ও কালিম্পং নিয়ে রবিবার আলোচনা হলেও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। তবে দার্জিলিং আসনে ফের জিএনএলএফ নেতা নীরজ জিম্বাকে সমর্থনের ইঙ্গিত দিয়েছে গেরুয়া শিবির। অন্যদিকে, অনীত থাপার দল ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চা পাহাড়ের তিনটি আসনেই এককভাবে লড়াই করার ঘোষণা দিয়ে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে দিয়েছে।
​ভোট ঘোষণা হতেই রাজ্যে পরিবর্তনের ডাক দিয়েছেন শমীক ভট্টাচার্য। সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি দেন- ​”বিজেপি ক্ষমতায় এলে নবান্ন নয়, সরকার চলবে রাইটার্স বিল্ডিং থেকে। কর্মসংস্থান হবে, পরিযায়ী শ্রমিকদের আর বাইরে যেতে হবে না। সরকারি কর্মীরা সপ্তম পে কমিশন অনুযায়ী ডিএ পাবেন। এছাড়া ‘অন্নপূর্ণা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের মাধ্যমে মহিলাদের মাসিক ৩০০০ টাকা করে দেওয়া হবে।” ​রাজ্যে দুই দফায় ভোট গ্রহণ নিয়ে কিছুটা আক্ষেপের সুরে শমীক জানান, এক দফায় ভোট হলে সাধারণ মানুষ বেশি খুশি হতেন। তবে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় তাঁরা পূর্ণ শক্তি দিয়ে লড়াই করতে প্রস্তুত। ইতিমধ্যেই নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর সমর্থনে দেওয়াল লিখন শুরু করে দিয়েছেন বিজেপি কর্মীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *