আজকের দিনেতিলোত্তমা

১৩ বছর পর জেলমুক্তির পথে সারদা কর্তা সুদীপ্ত সেন, জোড়া মামলায় জামিন মঞ্জুর কলকাতা হাই কোর্টের

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,কলকাতা: দীর্ঘ ১৩ বছরের বন্দিদশার পর অবশেষে জেলমুক্ত হতে চলেছেন সারদা গোষ্ঠীর কর্ণধার সুদীপ্ত সেন। রাজ্য পুলিশের হাতে থাকা শেষ দুটি বিচারাধীন মামলাতেও তাঁর জামিন মঞ্জুর করল কলকাতা হাই কোর্ট। বুধবার বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের ডিভিশন বেঞ্চ এই চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করে। আদালতের এই নির্দেশের পর সুদীপ্ত সেনের সংশোধনাগার থেকে বেরনোর ক্ষেত্রে আর কোনও আইনি বাধা রইল না। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে বৃহস্পতিবারই তিনি কারামুক্ত হতে পারেন।

 ১২ বছরের বেশি সময় জেলে কাটানোর পর সম্প্রতি সংশোধনাগার থেকেই কলকাতা হাই কোর্টে একটি ‘প্রিজনার্স পিটিশন’ দাখিল করেছিলেন সারদা কর্তা। আবেদনে তিনি জানান, দীর্ঘ দেড় বছর ধরে তাঁর মামলাগুলির কোনও শুনানি হচ্ছে না। বিভিন্ন আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকলেও তাঁকে ‘ভার্চুয়ালি’ বা ‘ফিজিক্যালি’ কোনওভাবেই হাজির করানো হচ্ছে না বলে অভিযোগ করে তিনি জামিনের আরজি জানান।

 তাঁর এই আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত সিবিআইয়ের কাছে সুদীপ্ত সেনের বিরুদ্ধে থাকা সমস্ত মামলার রিপোর্ট তলব করে। সিবিআইয়ের আইনজীবী অমাজিৎ দে আদালতে রিপোর্ট দিয়ে জানান, সুদীপ্ত সেনের বিরুদ্ধে মোট ৩৮২টি মামলা দায়ের হয়েছিল। এর মধ্যে ৭৬টি মামলা ছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে। সিবিআই এবং রাজ্যের দায়ের করা প্রায় সব কটি মামলাতেই তিনি ইতিমধ্যে শর্তসাপেক্ষে জামিন পেয়েছিলেন। শুধুমাত্র বারাসত আদালতে রাজ্যের করা দুটি মামলা বিচারাধীন অবস্থায় আটকে ছিল। বুধবার হাই কোর্ট সেই জোড়া মামলাতেও তাঁর জামিন মঞ্জুর করল।

 মঙ্গলবার দীর্ঘ শুনানির পর বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজ রায়দান স্থগিত রেখেছিলেন। বুধবার বেশ কিছু শর্তসাপেক্ষে জামিন মঞ্জুরের পাশাপাশি আদালত একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছে। চিটফান্ড সংস্থার টাকা আমানতকারীদের কাছে ফেরানোর লক্ষ্যে সারদা ও তালুকদার কমিটির তরফ থেকে বাজার থেকে তোলা মোট টাকার হিসাব, বাজেয়াপ্ত হওয়া সম্পত্তির হিসাব এবং আমানতকারীদের বকেয়া টাকার বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি।

 ২০১৩ সালে সারদা চিটফান্ড কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে আসার পর রাজ্যজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। ঘটনার পরই সংস্থার অন্যতম ডিরেক্টর দেবযানী মুখোপাধ্যায়কে সঙ্গে নিয়ে কাশ্মীরের সোনমার্গে গা ঢাকা দিয়েছিলেন সুদীপ্ত সেন। সেখান থেকেই রাজ্য পুলিশ তাঁদের প্রথম গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীকালে আদালতের নির্দেশে এই মেগা-দুর্নীতির তদন্তভার যায় সিবিআইয়ের হাতে। ধরা পড়ার পর সেই ২০১৩ সাল থেকেই বিচারাধীন বন্দি হিসেবে জেলেই দিন কাটছিল সুদীপ্ত সেনের। অবশেষে দীর্ঘ ১৩ বছরের আইনি জট কাটিয়ে মুক্তির স্বাদ পেতে চলেছেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *