Ebola : কঙ্গোয় ইবোলার তাণ্ডব ! প্রতি আধঘণ্টায় মৃত্যু, প্রাণী থেকেও ছড়াচ্ছে নতুন স্ট্রেনকঙ্গোয় ইবোলার তাণ্ডব! প্রতি আধঘণ্টায় মৃত্যু, প্রাণী থেকেও ছড়াচ্ছে নতুন স্ট্রেন !
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নিউজ ডেস্ক:- আবার আতঙ্ক ছড়াল ইবোলা। গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গো এবং উগান্ডায় ভয়াবহ রূপ নিয়েছে ইবোলার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ‘বুন্ডিবুজিও স্ট্রেন’। এখনও পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ২১০০ ছাড়িয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে প্রতি আধঘণ্টায় ১ জনের মৃত্যু হচ্ছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, এবার শুধু মানুষ থেকে মানুষে নয়, প্রাণীদেহ থেকেও ছড়াচ্ছে এই মারণ ভাইরাস। অথচ এখনও এর কোনও প্রতিষেধক নেই।
ফেব্রুয়ারি মাস থেকে কঙ্গোয় ছড়িয়েছে ইবোলার এই নতুন প্রজাতি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, এটাই ইবোলার সবচেয়ে ভয়ংকর ও প্রাণঘাতী স্ট্রেন। এর আগে যে সব ভ্যাকসিন অন্যান্য স্ট্রেন রুখতে কাজ করত, এই ‘বুন্ডিবুজিও স্ট্রেন’-এর ক্ষেত্রে তা একেবারেই কার্যকর হচ্ছে না।
সম্প্রতি ‘নেচার মেডিসিন’ পত্রিকায় কঙ্গো, উগান্ডা, বেলজিয়াম-সহ একাধিক দেশের বিজ্ঞানীদের গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে বলা হচ্ছে, ২০০৭ ও ২০১২ সালে যে ইবোলার প্রজাতি ছড়িয়েছিল, বর্তমানের এই স্ট্রেন তার থেকে অনেকটাই আলাদা। ঘনঘন জিনগত পরিবর্তনের কারণে চিকিৎসাবিজ্ঞানের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে ভাইরাসটি।
সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ কৃতিকা কুপ্পাল্লি জানাচ্ছেন, “ইবোলা কঙ্গো থেকে উগান্ডাতেও ছড়িয়ে পড়েছে। আর এই সংক্রমণটা হয়েছে পুরোপুরি প্রাণীদের মাধ্যমে, যা একেবারে নতুন। আগে এটা শুধুমাত্র ব্যক্তির থেকে ব্যক্তির শরীরে সংক্রমিত হতো। কিন্তু এখন ভাইরাসটি প্রায় স্বাধীনভাবে যে কোনও প্রাণী বা মানুষের শরীরে অবস্থান করছে। সেই কারণেই আগের কোনও প্রতিষেধক কাজ করছে না।”
রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব টেডরোস আধানম ঘেব্রিয়েসুস জানিয়েছেন, কঙ্গো-উগান্ডার এই পরিস্থিতি মনে করিয়ে দিচ্ছে ২০১৪ ও ২০১৬ সালের পশ্চিম আফ্রিকার মহামারীর কথা। তখন ইবোলায় প্রাণ হারিয়েছিলেন ১১ হাজারের বেশি মানুষ। তখন প্রতিষেধক তৈরি হয়েছিল। কিন্তু ২০২৬ সালের এই সংক্রমণ এযাবৎকালের সবচেয়ে ভয়াবহ। এখনও পর্যন্ত যার ভ্যাকসিন বানাতে সফল হয়নি চিকিৎসাবিজ্ঞান।
নেই চেনাজানা উপসর্গ, নেই কার্যকরী প্রতিষেধক। প্রাণী থেকে মানুষে সংক্রমণের খবর নতুন করে বাড়িয়েছে বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক। বিজ্ঞানীরা প্রতিষেধকের খোঁজে হিমশিম খাচ্ছেন। কঙ্গো-উগান্ডার এই ইবোলা সংক্রমণ আদৌ নিয়ন্ত্রণে আসবে কিনা, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা বিশ্ব।
