শওকতকে ‘পলাতক’ ঘোষণা এনআইএর, বিএসএফের সঙ্গে তথ্য শেয়ার
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা:- ভাঙড় বিস্ফোরণকাণ্ডে তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক তৎপরতা। এই মামলার অন্যতম অভিযুক্ত এবং ক্যানিং পূর্বের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লাকে খুঁজে বের করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তাঁর বাড়ি, দলীয় কার্যালয় এবং একাধিক সম্ভাব্য ঠিকানায় তল্লাশি চালানো হলেও তাঁর কোনও খোঁজ মেলেনি। শোনা যাচ্ছে , কোন এক আত্মীয়ের বাড়িতে আত্মগোপন করে রয়েছে শওকত।
সূত্রের দাবি, তদন্তের চাপ বাড়তেই শওকত মোল্লা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপন করেছেন। এমন জল্পনা ছড়িয়েছে যে তিনি নদীপথে বাংলাদেশে পালানোর পরিকল্পনা করেছিলেন। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, শেষবার লাল পোশাকে একটি মোটরবাইকে চেপে বাসন্তীর দিকে চুনাখালীতে যেতে দেখা গিয়েছে শওকতকে। কারণ, বাসন্তীর খেয়াঘাট পেরোলেই উত্তর ২৪ পরগনার দাঁতবেরিয়া খেয়াঘাট এবং সেখান থেকেই বাংলাদেশ সীমান্ত একদম কাছে। স্থানীয়রা শওকতকে সনাক্ত করতে পেরেই তার পথ আটকায় বলে স্থানীয় সূত্রে খবর।যদিও তাঁর অবস্থান সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি।
এনআইএ মনে করছে, সীমান্তবর্তী এলাকার ভৌগোলিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে দেশ ছাড়ার চেষ্টা হতে পারে। সেই আশঙ্কায় ইতিমধ্যেই বিএসএফের সঙ্গে অভিযুক্তের সমস্ত প্রয়োজনীয় তথ্য ভাগ করে নেওয়া হয়েছে। সীমান্তে নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
ভাঙড়ের চালতাবেড়িয়া অঞ্চলের বামুনিয়া এলাকায় নির্বাচনের আগে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বিস্ফোরণের তদন্তে নতুন করে গতি এসেছে। ওই ঘটনায় একজনের মৃত্যু হয়েছিল এবং আহত হয়েছিলেন একাধিক মানুষ। তদন্ত সূত্রে বেশ কিছুদিন আগেই আহিদুল ইসলাম নামে এক তৃণমূল নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সেই সূত্র ধরেই বৃহস্পতিবার শওকত মোল্লার নাম উঠে আসে তদন্তকারীদের নজরে।
এদিকে তল্লাশির সময় শওকত মোল্লার ছেলেকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং পরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে মূল অভিযুক্তের খোঁজ এখনও অধরা। শওকত যাতে কোন ভাবে বাংলাদেশে পালাতে না পারে তা নিশ্চিত করতে সব রকম চেষ্টা চালাচ্ছে তদন্তকারী সংস্থা। এক সময় এলাকার প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত শওকত মোল্লার এই রহস্যজনক অন্তর্ধানকে কেন্দ্র করে তদন্তকে আরো জটিল করে তুলেছে।
