ব্রিগেডে শপথ নেবেন নয়া মুখ্যমন্ত্রী, বাধ সাধতে পারে কালবৈশাখী
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা: আগামীকাল শনিবার এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে চলেছে তিলোত্তমা। রবীন্দ্রজয়ন্তীর পুণ্য লগ্নে ব্রিগেডে শপথ নিতে চলেছে বাংলার প্রথম বিজেপি সরকার। একদিকে যখন নতুন মন্ত্রিসভার শপথ নিয়ে সাজ সাজ রব, ঠিক তখনই আশঙ্কার মেঘ ঘনিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাসে। শপথ অনুষ্ঠানে হানা দিতে পারে প্রবল কালবৈশাখী।
ব্রিগেডের অন্দরমহল
শনিবার সকাল ১০টা থেকেই শুরু হবে অনুষ্ঠান। রবীন্দ্রজয়ন্তীর দিন হওয়ায় সকাল থেকেই ব্রিগেড চত্বরে বাজবে রবীন্দ্রসঙ্গীত। প্রবেশপথ সাজিয়ে তোলা হয়েছে বাংলার চিরায়ত সংস্কৃতিতে। মূল অনুষ্ঠানস্থলকে তিনটি বিশেষ ‘হ্যাঙারে’ ভাগ করা হয়েছে:
- মাঝের হ্যাঙার: এখানে রাজ্যপাল নতুন মুখ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভাকে শপথবাক্য পাঠ করাবেন।
- বামদিকের অংশ: এখানে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং বিজেপিশাসিত বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা।
- ডানদিকের অংশ: এখানে নবগঠিত রাজ্য মন্ত্রিসভার সদস্যদের বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য বিশেষ চমক হিসেবে থাকছে বাংলার প্রিয় ঝালমুড়ি ও রসগোল্লার স্টল।
নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছে ব্রিগেড
শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান ঘিরে কড়া নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে পুলিশ। পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ স্বয়ং প্রস্ততি খতিয়ে দেখেছেন। নিরাপত্তার প্রধান দিকগুলো হলো:
- ৪০০০ পুলিশকর্মী: পুরো ব্রিগেড চত্বরকে ৩০টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছে।
- উচ্চপদস্থ আধিকারিক: প্রতিটি সেক্টরের দায়িত্বে থাকছেন ডিসি বা এসিস্ট্যান্ট কমিশনার পদমর্যাদার অফিসার। নিরাপত্তার সামগ্রিক তত্ত্বাবধানে থাকছেন অতিরিক্ত ও যুগ্ম পুলিশ কমিশনাররা।
- প্রযুক্তি ও নজরদারি: পর্যাপ্ত সিসিটিভি, ড্রোন এবং বহুতলের ওপর থেকে বাইনোকুলারের মাধ্যমে নজরদারি চালানো হবে। বসানো হয়েছে প্রচুর মেটাল ডিটেক্টর।
- হেলিপ্যাড: প্রধানমন্ত্রী ও ভিভিআইপিদের জন্য বিশেষ হেলিপ্যাডের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
আবহাওয়া ও বিপর্যয় মোকাবিলা
আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শনিবার দুপুর থেকেই দক্ষিণবঙ্গে কালবৈশাখীর তাণ্ডব শুরু হতে পারে। ঘণ্টায় ৫০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়ার পাশাপাশি বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের মোকাবিলায় ব্রিগেডে তৈরি রাখা হয়েছে বিপর্যয় মোকাবিলা টিম। বৃষ্টির জল দ্রুত বের করে দেওয়ার জন্য মোতায়েন থাকছে অতিরিক্ত পাম্প।
বিজেপি নেতা-কর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ— সকলেরই এখন নজর শনিবারের ব্রিগেডের দিকে। একদিকে রাজনৈতিক পালাবদলের ইতিহাস, অন্যদিকে প্রকৃতির রক্তচক্ষু; সব মিলিয়ে এক রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির অপেক্ষায় বাংলা।
