সই জাল কাণ্ড: বয়ানে অসঙ্গতি, এবার সরাসরি বিধানসভায় সিআইডি হানা
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা: সই জাল মামলার জট খুলতে এবার নজিরবিহীন পদক্ষেপ তদন্তকারীদের। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের বিধায়কদের বয়ানে একাধিক অসঙ্গতি মেলার পর, সোমবার দুপুর পৌনে দুটো নাগাদ সরাসরি বিধানসভায় হাজির হলেন সিআইডি আধিকারিকরা। তদন্তের মূল হাতিয়ার তথা ‘রেজোলিউশন কপি’র খোঁজেই এই হানা বলে প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে।
রেজোলিউশন কপির খোঁজে মরিয়া তদন্তকারীরা
সিআইডি সূত্রে খবর, এই সই জাল মামলার রহস্যভেদে দীর্ঘদিন ধরেই একটি নির্দিষ্ট রেজোলিউশনের কপি খুঁজছেন তদন্তকারীরা। এর আগে সেই নথির সন্ধানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি সংলগ্ন তৃণমূল কার্যালয়েও তল্লাশি চালিয়েছিল সিআইডি। তবে সেবার দীর্ঘ তল্লাশির পরও খালি হাতেই ফিরতে হয়েছিল তাঁদের। পরবর্তীতে আদালতের ভর্ৎসনার মুখে পড়ে সিআইডি দপ্তরে হাজিরা দিতে বাধ্য হন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাঁকে বারবার ওই রেজোলিউশনের কপির অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন করা হলেও, ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ কোনও সদুত্তর দেননি। অধিকাংশ প্রশ্নের উত্তরেই তিনি ‘জানি না’ বলে এড়িয়ে যান।
বয়ানে অসঙ্গতি ও মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ
তদন্তের স্বার্থে রবিবার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করেন সিআইডি অফিসাররা। কিন্তু দু’দফার এই জিজ্ঞাসাবাদেও সন্তুষ্ট হতে পারেননি তদন্তকারীরা। সূত্রের দাবি, মুখোমুখি বসিয়ে প্রশ্ন করা হলেও অভিষেকের বয়ানে একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। আর সেই কারণেই এই সই কাণ্ডের শিকড়ে পৌঁছতে সোমবার বিধানসভার স্পিকারের সচিবালয়ে পৌঁছান সিআইডি আধিকারিকরা। মূল ঘটনার সূত্রপাত কীভাবে এবং রেজোলিউশন কপিটি এই মুহূর্তে কোথায় রয়েছে— মূলত এই দুই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই বিধানসভায় এই হানা।
অসন্তোষ তৃণমূল শিবিরে
এদিকে সিআইডির এই ঘন ঘন তলব এবং একই প্রশ্ন বারবার ঘুরিয়ে ফিরিয়ে করা নিয়ে দলের অন্দরেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তৃণমূলের এক শীর্ষ নেতা এই তদন্তপ্রক্রিয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
”এভাবে বারবার তলব করে সকলকে একই প্রশ্ন করার কোনও অর্থ হয় না। এতে গোটা বিষয়টি আরও জটিল হয়ে উঠছে। এর চেয়ে যাদের সই নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, তাঁরা নিজেরা সই করেছেন কি না, তা সরাসরি জিজ্ঞেস করলেই তো সমস্যা অনেক সহজে মিটে যায়।”
তবে শাসক শিবিরের এই আপত্তিতে কান না দিয়ে, বিধানসভার স্পিকারের সচিবালয় থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথির সন্ধান চালিয়েই সই জাল কাণ্ডের রহস্যভেদ করতে চাইছে সিআইডি। সোমবারের এই অভিযানের পর তদন্ত কোন মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।
