‘ইন্ডিয়া’ বৈঠকের আগেই ফাটল চওড়া: দিল্লিতে তৃণমূলের অন্দরেও সন্দেহের মেঘ
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা:- ভোট-বিপর্যয়ের এক মাস পেরোতে না পেরোতেই প্রবল ঝড় বিজেপি বিরোধী শিবিরে। বঙ্গে তৃণমূলে ভাঙনের আশঙ্কার মাঝেই এবার দিল্লিতে সংসদীয় দলেও আড়াআড়ি ফাটলের ইঙ্গিত। ৮ জুন ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বৈঠকের আগে সুর বেসুরো তৃণমূলের একাংশের। প্রকাশ্যে বিদ্রোহের ঘণ্টা বাজালেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার।
লোকসভায় তৃণমূলের ২৮ জন সাংসদের একটা বড় অংশ যে ‘বেসুরো’ হয়েছেন, তা একান্তে মেনে নিচ্ছেন দলের প্রথম সারির অনেক নেতাই। ৪ মে বিধানসভা ভোটের ফল বেরোনোর পর থেকেই দলের অন্দরে অস্বস্তি বাড়ছে। কলকাতা থেকে দিল্লি, সর্বত্রই চাপা গুঞ্জন।
আগামী সোমবার, ৮ জুন দিল্লিতে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের প্রস্তাবিত বৈঠক। বিজেপি বিরোধী দলগুলির এই বৈঠকে কংগ্রেসের ডাকে সাড়া দিয়ে উপস্থিত থাকবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে ডিএমকে ও আম আদমি পার্টি। তেজস্বী যাদবের আরজেডি এবং অখিলেশ যাদবের সমাজবাদী পার্টিও এখনও সবুজ সঙ্কেত দেয়নি। এর মাঝেই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, তৃণমূল কী করবে? লোকসভা ও রাজ্যসভা মিলিয়ে তৃণমূলের সাংসদ সংখ্যা ৪১। বিধানসভার মতো দিল্লিতেও জোড়াফুলের সংসদীয় দলে ফাটল ধরবে কি না, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে।
সেই জল্পনাই আরও উস্কে দিয়েছেন বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। এক্স হ্যান্ডলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ট্যাগ করে তিনি লিখেছেন, ‘আপনার কী মনে হয়, একটি রাজনৈতিক পরিবারের চার বারের সাংসদ, যিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে থেকে চার দশক স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন, তিনি নিজের কথা ভাবেন? এটি নীতির বিরুদ্ধে রায় এবং শাসনের ব্যর্থতা৷’ বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের পর্যুদস্ত হওয়া নিয়েই যে এই বার্তা, তা স্পষ্ট। এরপর প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসনের উক্তিও পোস্ট করেন তিনি: ‘ইফ ইউ ওয়ান্ট টু মেক এনিমিজ়, ট্রাই টু চেঞ্জ সামথিং।’ অর্থাৎ, শত্রু তৈরি করতে চাইলে, কিছু বদলের চেষ্টা করো। বদল কি তবে দলের অন্দরেই? কাকলি আর সেটা ভাঙেননি।
রাজধানীতে তৃণমূলের অন্দরের খবর, সেখানে এখন প্রবল সন্দেহের বাতাবরণ। সূত্রের খবর, গত কয়েকদিন ধরেই প্রতি তিন-চার ঘণ্টা অন্তর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ দু-তিন জন প্রথম সারির নেতা দলের সাংসদদের একে একে ফোন করে তাঁদের খবর নিচ্ছেন, তাঁরা কোথায় আছেন, কী করছেন৷ তৃণমূলের লোকসভা সাংসদ জগদীশ বসুনিয়ার কাছেও ফোন গিয়েছিল। তিনি জানান, ছেলের চিকিত্সার জন্য সপরিবার দিল্লিতে আছেন। কলকাতায় থাকা তৃণমূলের প্রথম সারির ওই নেতা তাঁর কথায় বিশ্বাস করেননি৷ বসুনিয়াকে বলা হয়, হাসপাতালের বেডে শুয়ে থাকা অসুস্থ ছেলের ছবি পাঠাতে৷ বসুনিয়া সেই ছবিও পাঠান৷ গোটা ঘটনা জানিয়ে তিনি দলনেত্রীকে মেসেজও করেন৷ তবে কোনও উত্তর মেলেনি৷
তা হলে কি জোড়াফুল ঘেঁটে তছনছ করছে পদ্ম শিবির?
তৃণমূলকে আমল দিতেই নারাজ বঙ্গ-বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর কটাক্ষ, ‘কেউ কোনও তৃণমূল বিধায়ককে ফোন করেননি৷ কেউ কোনও তৃণমূল সাংসদকেও ফোন করেননি৷ ফোন তৃণমূল থেকে আসছে৷ ভোটের আগে এসেছে, ভোটের পরেও এসেছে৷ তৃণমূল কংগ্রেস কোনও দিনই কোনও রাজনৈতিক দল ছিল না৷ তৃণমূল এখন অতীত৷’ শমীকের সংযোজন, ‘আগামী দিনে তৃণমূলকে নিয়ে ইসলামিক হিস্ট্রিতে একটা চ্যাপ্টার থাকবে৷ এটা এমন একটা দল ছিল, যার নীতিই ছিল দুর্নীতি৷ এই দলের নেতারা দু’হাতে দু’টি ঘড়ি পরতেন৷ কিন্তু সময় কাউকে ক্ষমা করে না৷ মানুষ প্রমাণ করে দিয়েছে রাজনীতিতে ঔদ্ধত্য, দখলদারি এবং দুর্নীতির কোনও স্থান নেই।’
বিধানসভা ভোটের ধাক্কা সামলানোর আগেই দিল্লিতে ‘ইন্ডিয়া’ বৈঠক। তার আগে তৃণমূলের ঘরেই বিদ্রোহের সুর এবং সন্দেহের বাতাবরণ দলকে আরও কোণঠাসা করছে। ৮ জুনের বৈঠকে তৃণমূল যাবে কি না, গেলেও দলের সব সাংসদ একসুরে কথা বলবেন কি না, এখন সেটাই দেখার। রাজনৈতিক মহলের মতে, আগামী কয়েকদিন জোড়াফুলের জন্য যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।
