আজকের দিনেবাংলার আয়নারাজনীতি

‘আঙুল ফুলে বটগাছ হয়েই গিয়েছে’, তৃণমূলের দুর্নীতি নিয়ে বিস্ফোরক দিলীপ ঘোষ

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- খড়্গপুরে মর্নিং ওয়াকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তৃণমূলকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত-গ্রামোন্নয়ন ও প্রাণী সম্পদ দপ্তরের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। শনিবার তিনি রাজ্যের বিদায়ী শাসক দল তৃণমূলের দুর্নীতি, থ্রেট কালচার এবং সরকারি প্রকল্পে অনিয়ম নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন।

শনিবার সকালে খড়্গপুরে প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তৃণমূলের একাংশের বিরুদ্ধে তোপ দেগে তিনি বলেন, ‘ভোটের পর থেকে কাউন্সিলার, পঞ্চায়েত প্রধানরা অফিসে আসছেন না। কারণ তাঁরা এত দুর্নীতি করেছেন, যে রাস্তায় পাবলিক অ্যাটাক করছেন। সমস্ত সরকারি প্রকল্পের টাকা নিয়েছেন তাঁরা। ছেলেদেরকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা দেওয়া হয়েছে। সমস্ত অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণেই আজ সাধারণ মানুষের মনে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।’ বিদায়ী সরকারের ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্পগুলির কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। কটাক্ষ করে বলেন, ‘রাজ্যে কন্যাশ্রী, রূপশ্রীর মতো প্রকল্প নিয়ে এত প্রচার করা হতো, সেখানেই বাল্যবিবাহের হার বেশি। এটি অত্যন্ত লজ্জাজনক।’ ‘থ্রেট কালচার’ নিয়েও সরব হন দিলীপ ঘোষ। তাঁর অভিযোগ, ‘থ্রেট কালচার একটা বড় ইস্যু ছিল এ রাজ্যে। পুলিশ, SDO, BDO-রা কেউ কাজ করতে পারতেন না। তাঁদের চমকানো হতো। কেউ রাজমিস্ত্রি, কেউ জোগাড়ে ছিল, কেউ আবার মুরগি বিক্রি করতেন। তাঁরাই কাউন্সিলার, প্রধান, চেয়ারম্যান হয়েছেন। আঙুল ফুলে কলা গাছ নয়, ফুলে বটগাছ হয়ে গিয়েছে। সবকিছুর তদন্ত হবে।’ রাজ্যে পালা বদলের পর শিল্প-সংস্কৃতি জগতের বহু মানুষ তৃণমূলের দুর্নীতি নিয়ে মুখ খুলছেন বলেও দাবি করেন তিনি। দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘কিছু শিল্পী রয়েছেন যাঁরা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর গুণগান করতেন, তাঁরাই এখন মুখ খুলছেন। পেটের জন্যই গিয়েছিলেন সবাই। কারণ ওই পার্টির ঝান্ডার তলায় না গেলে কেউ কাজ পাবেন না। যাঁরা বিজেপির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাঁরা কেউ কাজ পাননি। শিল্পীরা কী করবেন, তাঁদের তো কিছু করার নেই। তাঁদের তো করে খেতে হয়।’

দিলীপ ঘোষের এই প্রকাশ্য বিস্ফোরণ রাজ্য রাজনীতিতে কার্যত ভূমিকম্প ঘটিয়েছে। ‘আঙুল ফুলে বটগাছ’ থেকে ‘থ্রেট কালচার’, ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’এ অনিয়ম— তাঁর প্রতিটি শব্দ তৃণমূলের অন্দরের পচনকেই সামনে এনেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *