মার্কিন মহলে আতঙ্ক! মরুভূমিতে জিনপিংয়ের ত্রিস্তরীয় পরমাণু চক্রব্যূহ
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ফাঁকা ও নির্জন এলাকা পেলেই সেখানে চোরের মতো সামরিক ঘাঁটি গড়া চিনের পুরনো অভ্যাস। ভারতের সীমান্ত এলাকায় বেজিংয়ের এমন বহু কীর্তি হাতেনাতে ধরা পড়েছে। তবে এবার ভারতের সীমান্ত পেরিয়ে সরাসরি মহাশক্তিধর আমেরিকাকে ভাতে মারার বা ‘চোকহোল্ড’ করার ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করে ফেলেছে চিনা সেনা । সম্প্রতি চিনের এক দুর্গম মরুভূমি অঞ্চলের কিছু গোপন উপগ্রহ চিত্র (Satellite Images) সামনে এসেছে, যা দেখে কার্যত রাতের ঘুম উড়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের। আমেরিকার পরমাণু হামলা রুখে দিতে চিন সেখানে এমন এক ৩ স্তরের পরমাণু চক্রব্যূহ তৈরি করছে, যা ভেদ করা ওয়াশিংটনের পক্ষে অসম্ভব বলেই মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।
হামি পরমাণু সাইলো ফিল্ড: কী করছে লাল ফৌজ?
রয়টার্সের হাতে আসা উপগ্রহ চিত্রে দেখা গিয়েছে, চিনের উত্তর-পশ্চিম মরুভূমির ‘হামি’ (Hami) পরমাণু সাইলো ফিল্ডের কাছে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় বিশাল সামরিক পরিকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। চিনের দূরপাল্লার পরমাণু মিসাইলগুলি এমনিতেই আমেরিকার যে কোনও শহরকে উড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। তবে এবার নিজেদের সুরক্ষাকে নিশ্ছিদ্র করতে দূরপাল্লার সাইলোর আশেপাশে ৮০টিরও বেশি নতুন কংক্রিট লঞ্চ প্যাড এবং আন্ডারগ্রাউন্ড বাঙ্কার তৈরি করেছে বেজিং।
-
মোবাইল মিসাইল লঞ্চার: এই বিশাল কংক্রিট প্যাডগুলিতে চিনের ঘাতক মোবাইল মিসাইল লঞ্চার এবং এয়ার ডিফেন্স মিসাইল ব্যাটারি অনায়াসে মোতায়েন করা যাবে।
-
ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার: ঘাঁটিটিতে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার এবং স্যাটেলাইট কমিউনিকেশন সিস্টেমের উপস্থিতি স্পষ্ট দেখা গিয়েছে।
৩ লেয়ারের অষ্টভুজাকার চক্রব্যূহ (Octagon Base)
এই মরুভূমি নেটওয়ার্কের মধ্যে তিনটি অষ্টভুজাকার (Octagon Shape) সামরিক বেসের সন্ধান মিলেছে, যার মধ্যে উত্তর দিকের বেসটিকে অত্যন্ত চাতুর্যের সঙ্গে ৩টি স্তরে সাজানো হয়েছে:
৩ স্তরের সামরিক চক্রব্যূহ:
- প্রথম স্তর: একেবারে কেন্দ্রে রয়েছে প্রধান কমান্ড বিল্ডিং বা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ।
- দ্বিতীয় স্তর: মূল কেন্দ্রকে ঘিরে থাকা আবাসন, যেখানে সামরিক অফিসার ও ফৌজরা থাকবেন।
- তৃতীয় স্তর: বাইরের এই স্তরে লুকিয়ে রাখা হবে ভারী সামরিক গাড়ি এবং ঘাতক ট্রাক-মাউন্টেড মিসাইল লঞ্চার।

এই পুরো ঘাঁটিকে সুরক্ষিত করতে চারপাশ ঘিরে রয়েছে সাঁজোয়া বাঙ্কার, অস্ত্রাগার, বিমান ওঠানামার রানওয়ে এবং রেললাইন— যা সরাসরি যুক্ত হামির পরমাণু সাইলোর সঙ্গে। এপ্রিল ও মে মাসেই এই এলাকায় চিনা সেনার মিসাইল ব্যাটারি নিয়ে বিশাল যুদ্ধাভ্যাসও নজরে এসেছে।
আমেরিকাকে ‘চোকহোল্ড’ করার ব্লু-প্রিন্ট
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, আমেরিকা যাতে চিনের ওপর প্রথম পরমাণু হামলা (First Strike) চালানোর সাহস না পায়, তার জন্যই জিনপিং প্রশাসনের এই ‘সেকেন্ড-স্ট্রাইক ক্যাপাবিলিটি’ বা পাল্টা আঘাত হানার মাস্টারস্ট্রোক। আমেরিকা বা রাশিয়া কেবল মাটির তলার সাইলোর ওপর ভরসা করলেও, চিন তার সাইলোর সুরক্ষায় মোবাইল লঞ্চারের রক্ষাকবচ খাড়া করছে।
এর পাশাপাশি, চিন তাদের ‘হুওয়ান-১’ (Huoyan-1) স্যাটেলাইটের সাহায্যে আর্লি-ওয়ার্নিং সিস্টেমকে আরও শক্তিশালী করেছে। শত্রুদেশ মিসাইল উৎক্ষেপণ করার মাত্র ৯০ সেকেন্ডের মধ্যে এই সিস্টেম তা ধরে ফেলবে এবং ৩ থেকে ৪ মিনিটের মধ্যে অ্যালার্ট পাঠিয়ে দেবে। অর্থাৎ আমেরিকা হামলা চালালে, চিন পাল্টা পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্র দাগার জন্য পর্যাপ্ত সময় পেয়ে যাবে।
২০৩০ সালের মধ্যে ১,০০০ পরমাণু ওয়ারহেড!
চিন মুখে সবসময় ‘নো ফার্স্ট ইউজ’ (আগে পরমাণু হামলা না করার নীতি) কসম খেলেও, পশ্চিমি দুনিয়ার আশঙ্কা ভিন্ন। তাইওয়ান যুদ্ধ শুরু হলে আমেরিকা যাতে নাক গলাতে না পারে, তার জন্য এই পরমাণু চক্রব্যূহ তৈরি করে ওয়াশিংটনের ওপর চাপ বাড়াতে চাইছে বেজিং। পেন্টাগনের রিপোর্ট বলছে, চিন বিশ্বে সবচেয়ে দ্রুত গতিতে পরমাণু শক্তি বাড়াচ্ছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে তাদের কাছে ১,০০০-এর বেশি পরমাণু ওয়ারহেড থাকবে। মরুভূমির এই গোপন প্রস্তুতি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, আমেরিকার দাদাগিরি বন্ধ করতে এবার কোমর বেঁধে নেমেছে জিনপিং সরকার।
