আজকের দিনেভারত

পরীক্ষাকেন্দ্রে ৫ পড়ুয়াকে পৈতে খুলতে বাধ্য করার অভিযোগে উত্তাল কর্ণাটক

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,বেঙ্গালুরু: পরীক্ষার হলে মেটাল বা ধাতব গয়না খোলানো সাধারণ ঘটনা হলেও, এবার কর্ণাটকে পড়ুয়াদের ধর্মীয় আবেগে আঘাত হানার গুরুতর অভিযোগ উঠল। বেঙ্গালুরুর একটি কলেজে কমন এন্ট্রান্স টেস্ট  দিতে আসা ৫ জন ব্রাহ্মণ পড়ুয়াকে তাঁদের ‘উপবীত’ বা পৈতে খুলতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে অধ্যাপকদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দানা বেঁধেছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক।

ঠিক কী ঘটেছে?

শনিবার বেঙ্গালুরুর কোরমঙ্গলা কলেজের ওই পরীক্ষাকেন্দ্রে ঢোকার মুখে তল্লাশি শুরু করেন কর্তব্যরত অধ্যাপকরা। অভিযোগ, সেখানে ৫ জন পড়ুয়াকে জোর করে তাঁদের পৈতে খুলতে বলা হয়। শুধু তাই নয়, বহু পড়ুয়ার হাতে থাকা পবিত্র লাল-হলুদ সুতোও কাঁচি দিয়ে কেটে ফেলা হয়।

ক্ষুব্ধ এক পড়ুয়ার বয়ান অনুযায়ী:

“কানের দুল বা গয়না খুলতে বলা হলে তার একটা যৌক্তিক কারণ থাকে। ধাতব জিনিস পরীক্ষার হলে নিষিদ্ধ। কিন্তু পৈতে খুলতে কেন বাধ্য করা হলো, সেটা আমাদের বোধগম্য নয়।”

প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ

ঘটনার কথা জানাজানি হতেই পরীক্ষাকেন্দ্রের বাইরে অভিভাবকরা ভিড় জমান। তাঁরা দাবি করেন, পৈতে খোলার বিষয়ে সরকারের কোনো নির্দেশিকা নেই। গত বছরও একই রকম বিতর্কের পর কর্ণাটক সরকার স্পষ্ট জানিয়েছিল যে পৈতে খোলার প্রয়োজন নেই। অভিযোগ পেয়েই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। তড়িঘড়ি ৩ জন অভিযুক্ত অধ্যাপককে সাসপেন্ড করা হয়েছে এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

উত্তপ্ত রাজনীতি: আসরে বিজেপি ও কংগ্রেস

এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে কর্ণাটকের কংগ্রেস সরকারকে ‘হিন্দু-বিরোধী’ বলে আক্রমণ শানিয়েছে বিজেপি। বিধানসভার বিরোধী দলনেতা আর অশোক এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন। পাল্টা সাফাই দিয়ে কর্ণাটকের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী এমসি সুধাকর এই ঘটনাকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলে বর্ণনা করেছেন এবং দোষীদের কড়া শাস্তির আশ্বাস দিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *