কলকাতায় শিশুকন্যাকে যৌন নির্যাতন ও আছড়ে খুন!
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,কলকাতা: খাস কলকাতায় তিন বছরের এক শিশুকন্যাকে যৌন নির্যাতন ও নৃশংসভাবে আছড়ে খুনের অভিযোগে শিউরে উঠল শহরবাসী। ময়দান এলাকায় ঘটে যাওয়া এই নারকীয় ঘটনায় অভিযুক্ত যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। খুনের পর উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যায় গা ঢাকা দিলেও, শহরে ফিরতেই গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ তাকে বাবুঘাট এলাকা থেকে পাকড়াও করে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট:
পুলিশ সূত্রে খবর, গত ২১ মার্চ ময়দান এলাকায় এই ভয়াবহ ঘটনাটি ঘটে। শিশুটির মা ময়দান এলাকাতেই থাকতেন। সেখানেই তাঁর পরিচয় হয় রবীন্দ্রনগর এলাকার আক্রার বাসিন্দা এক যুবকের সঙ্গে। ওই যুবক ও শিশুটির মা— দুজনেই প্রবল মাদকাসক্ত ছিলেন। ওই যুবক মহিলার সঙ্গে তাঁর ডেরাতেই থাকতে শুরু করে। অভিযোগ, সেখানে থাকাকালীন একাধিকবার শিশুটিকে যৌন নিগ্রহ করে ওই পাষণ্ড।
নেশার ঘোরে নৃশংসতা:
ঘটনার দিন ওই যুগল মাদক কেনার জন্য কিছু টাকা পায় এবং তা দিয়ে মাদক সেবন করে। নেশার ঘোরে থাকাকালীন শিশুটিকে কেন্দ্র করে দুজনের মধ্যে বিবাদ বাধে। সেই ঝগড়ার জেরে রাগের মাথায় তিন বছরের শিশুটিকে তুলে ধরে মাটিতে আছাড় মারে অভিযুক্ত যুবক। রক্তাক্ত অবস্থায় দীর্ঘক্ষণ পড়ে থাকার পর শিশুটির মা তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলেও শেষরক্ষা হয়নি। চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে যৌন নির্যাতন ও আঘাতের প্রমাণ মেলায় পকসো আইনে মামলা দায়ের করে পুলিশ।
অযোধ্যায় পলায়ন ও গ্রেফতার:
খুনের পর পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে অভিযুক্ত যুবক ট্রেনে করে উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যায় পালিয়ে যায়। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে ভেবে শুক্রবার ভোররাতে সে কলকাতায় ফেরে। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ময়দান থানার পুলিশ বাবুঘাটের কাছে ওত পেতে বসেছিল এবং সেখান থেকেই তাকে হাতেনাতে গ্রেফতার করে।
তদন্তে পুলিশের বক্তব্য:
পুলিশি জেরায় অভিযুক্ত যুবক শিশুটিকে আছড়ে মারার কথা স্বীকার করলেও তার দাবি, ঘটনার সময় সে এতটাই নেশাগ্রস্ত ছিল যে খুনের কারণ বা পরিস্থিতি তার মনে নেই। লালবাজারের গোয়েন্দারা মনে করছেন, খুনের ‘মোটিভ’ বা উদ্দেশ্য নিয়ে ধৃত যুবক তথ্য লুকানোর চেষ্টা করছে। এই ঘটনায় শিশুটির মা এবং অন্যান্য পরিচিতদেরও দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
