আজকের দিনেবাংলার আয়নারাজনীতি

অশান্তি মুক্ত ভোট করাতে মরিয়া নির্বাচন কমিশন, চলছে বিশেষ বৈঠক

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা:- দু’চারটে বিক্ষিপ্ত অশান্তি ছাড়া মোটের উপর নির্বিঘ্নেই কেটেছে প্রথম দফার নির্বাচন। উৎসবের মেজাজে ভোট দিয়েছেন ভোটাররা। কমিশনের তৎপরতায় রাজ্যের ১৬ জেলার ১৫২ আসনে প্রায় শান্তিপূর্ণই মিটেছে ভোট।প্রায় ৯২ শতাংশ ভোট পড়েছে।

প্রযুক্তি, পরিকল্পনা আর পরিশ্রমেই যে সাফল্য এনে দিয়েছে, তা আগেই বলছে নির্বাচন কমিশন।

এবার লক্ষ্য দ্বিতীয় দফার।  আগামী ২৯ এপ্রিল রাজ্যে দ্বিতীয় দফার নির্বাচন। কলকাতা-সহ একাধিক ‘হেভিওয়েট’ কেন্দ্রে ভোট রয়েছে। প্রথমদফার মতোই দ্বিতীয়দফাও যাতে শান্তিপূর্ণ হয় সেই লক্ষ্যেই এগোচ্ছে কমিশন। পরিস্থিতি সরজমিনে খতিয়ে দেখতে ফের একবার ময়দানে নেমেছেন মনোজ আগরওয়াল।  সপ্তাহান্তেই মাঠে নামলেন বাংলার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়াল।

আরামবাগ, বনগাঁ, ব্যারাকপুর ও সন্দেশখালিতে সরেজমিনে পরিদর্শন করবেন সিইও। সূত্রের খবর, চার কেন্দ্র কে নিয়ে বিশেষ বৈঠকে বসবেন তিনি। জেলায় জেলায় টহলদারিতে সিইও-র সঙ্গে থাকবেন বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত ও বিশেষ পুলিশ পর্যবেক্ষক এন কে মিশ্রও। বারাকপুর, নিউটাউন, কৃষ্ণনগরেও বৈঠক হবে বলে জানা গেছে। আগামীকাল ডায়মন্ড হারবার সিইও-র সঙ্গে তাঁর বৈঠক হওয়ার কথা।

সূত্রের খবর, দু’একটি বিচ্ছিন্ন অশান্তিও যাতে না ঘটে, তার জন্যই শেষ মুহুর্তের চেষ্টা করছেন কমিশনের আধিকারিকরা। পূর্বের থেকে শিক্ষা নিয়ে শেষ প্রস্তুতিতে ব্যস্ত তাঁরা। সংশ্লিষ্ট জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিটি থানার ওসি-দের সঙ্গেও বৈঠক করবেন। আইন-শৃঙ্খলার বর্তমান পরিস্থিতি যাচাই করার পাশাপাশি বুথ স্তরে নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে আধিকারিকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেবেন তিনি। মূলত স্পর্শকাতর বুথগুলিতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর মোতায়েন ও নজরদারি বাড়ানোই এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য।

দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের আগেই আরও ১১ জন পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছে কমিশন। ভোটের নজরদারি আরও আঁটোসাঁটো করার উদ্দেশেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।

আজ, শনিবার ভোট প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে যান আরামবাগে যান তিনি। সেখানে সমস্ত রাজনৈতিক দল, পুলিশ অবজার্ভার, প্রশাসনের আধিকারিকদের নিয়ে উচ্চপর্যায়ের একটি বৈঠক সারেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক। আর সেই বৈঠক থেকে একাধিক ইস্যুতে কথা বলেন তিনি।

এদিকে প্রথমদফার ভোট মিটতেই ইভিএমে কারচুপির অভিযোগ তুলছে শাসক-বিরোধী দু’পক্ষই। এমনকী এই বিষয়ে সরব হয়েছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। কিন্তু সেই আশঙ্কা উড়িয়ে দিল নির্বাচন কমিশন। এই প্রথম বাংলায় ইভিএমে জিপিএস ট্র্যাকিং রয়েছে। ফলে কারচুপির কোনও জায়গা নেই বলেই জানালেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক।তবে রিজার্ভ ইভিএম, লাইট নিয়ে বেশ কিছু অভিযোগ এসেছিল। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল।

জানা গেছে, প্রথম দফার ভোটে যেটুকু অশান্তি হয়েছে, দ্বিতীয় দফায় তার সম্ভাবনাও দূর করতে মরিয়া নির্বাচন কমিশন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *