ভোটের মাঠের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দেব-হিরণ টলিউডের সুদিন ফেরাতে এবার একই কমিটিতে দুজন তারকা
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা:- ইভিএমের যুদ্ধে বারবার সংঘাতে জড়িয়েছেন। বাকযুদ্ধে সরগরম হয়েছে বাংলার রাজনীতি। সেই দেব আর হিরণই এবার এক ছাতার তলায়। টলিউডের দীর্ঘদিনের অস্থিরতা কাটাতে বড় পদক্ষেপ নবান্নের। তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের অধীনে নতুন কমিটিতে জায়গা পেলেন দুই তারকা রাজনীতিবিদ। শুভেন্দুর দফতরের উদ্যোগে ১৯ জনকে নিয়ে গঠিত হল এই হাই-প্রোফাইল প্যানেল।
গত ৮ জুন নবান্নে হয়েছিল অতি-গুরুত্বপূর্ণ রুদ্ধদ্বার বৈঠক। সেই বৈঠকের কার্যবিবরণী প্রকাশ্যে আসতেই সামনে এল টলিউডের ভবিষ্যৎ বদলের ইঙ্গিত। নথি অনুযায়ী, তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের অধীনে থাকা প্রায় ৪০টি কমিটি ও সংস্থার কাজ এবার কড়া আতশ কাচের নিচে পড়ছে। অনেক সংস্থার কাজ একই ধরণের হওয়ায় সেগুলোকে এক ছাতার তলায় আনার ভাবনা। দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বৈঠকে উপস্থিত বিনোদন জগতের প্রতিনিধিদেরই।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তারকা-বিধায়ক রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, রুদ্রনীল ঘোষ, হিরণ্ময় চট্টোপাধ্যায় ও পাপিয়া অধিকারী। প্রশাসনের তরফে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডাঃ সুব্রত গুপ্ত, ডিরেক্টর অফ ফিল্মস এবং দফতরের শীর্ষ আমলারা।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল ‘ফেডারেশন’ ও বিভিন্ন গিল্ডের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা। কার্যবিবরণীতে সতর্ক করে বলা হয়েছে, ফেডারেশনের পরিচালন ব্যবস্থায় দ্রুত পেশাদারিত্ব ও স্বচ্ছতা না এলে গোটা শিল্প বিপুল আর্থিক বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। কোপ পড়বে স্টুডিও পাড়ার সাধারণ টেকনিশিয়ান ও কলাকুশলীদের কর্মসংস্থানে।
নতুন কমিটিতে জায়গা পেয়েছেন রাজনীতি ও টলিউডের দুই জগতের হেভিওয়েটরা। তালিকায় আছেন রূপা গাঙ্গুলি, পাপিয়া অধিকারী, রুদ্রনীল ঘোষ, হিরণ্ময় চট্টোপাধ্যায়, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, দীপক অধিকারী অর্থাৎ দেব, যিশু সেনগুপ্ত, মহেন্দ্র সোনি, সানি ঘোষ রায়, জয়ন্ত কুণ্ডু, কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়, সৃজিত মুখোপাধ্যায়, অমিত দাস, তন্ময় দে। প্রশাসনের তরফে থাকছেন ড. সৌমিত্র মোহন, কৃত্তিবাস নায়ক, শর্মিষ্ঠা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সান্তনু বসু। প্রয়োজনে বিধায়কদের সুপারিশে আরও সদস্য যুক্ত হতে পারেন।
দেব এখন এনসিপিআইতে, হিরণ বিজেপিতেই। ভোটের লড়াই এখন অতীত। টলিপাড়ার সুদিন ফেরাতে এবার একই কমিটিতে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী। রাজনীতির মঞ্চে পালাবদলের পর এবার বিনোদনের মঞ্চেও নতুন সমীকরণ। ফেডারেশনের অলিখিত রাজ কায়েম ভাঙতে আর শিল্পে স্বচ্ছতা ফেরাতেই এই মেগা-প্যানেল, বলছে নবান্নের অন্দরমহল।
