অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার কারা পাবেন আর কারা পাবেন না, স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,ফলতা: অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের ফর্মে পরিবারের খুঁটিনাটি তথ্য চাওয়া নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই আমজনতার মনে তৈরি হয়েছিল একাধিক প্রশ্ন। সন্তান কোন স্কুলে পড়ে, পরিবারের জমির পরিমাণ কত, এমনকি কোভিড টিকার তথ্যও কেন ফর্মে দিতে হচ্ছে— তা নিয়ে রাজ্যজুড়ে চলছিল জল্পনা। বুধবার ফলতার সরকারি অনুষ্ঠান থেকে সেই সমস্ত ধোঁয়াশা একঝটকায় পরিষ্কার করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, ঠিক কোন কোন যোগ্যতার ভিত্তিতে মিলবে এই প্রকল্পের সুবিধা, আর কারা বাদ পড়বেন তালিকা থেকে।
ক্ষমতায় আসার পরেই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি মেনে জুনেই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা দেওয়া শুরু করেছে নতুন সরকার। বর্তমানে রাজ্যজুড়ে চলছে ‘জনকল্যাণ শিবির’, যেখানে প্রতিদিন কাতারে কাতারে মানুষ এই ভাতার জন্য আবেদন করছেন। কিন্তু ফর্মের কঠোর নিয়মাবলী দেখে সাধারণ মানুষের ধারণা হয়েছিল, পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতি বিচার করেই হয়তো ভাতা দেওয়া হবে।
স্কুলের শিক্ষাগত যোগ্যতাই আসল মাপকাঠি
বুধবার ফলতার মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানান, “যাঁদের সন্তানরা সরকারি বা সরকার পোষিত স্কুলে পড়াশোনা করে, তাঁরা নিশ্চিতভাবেই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা পাবেন। বেসরকারি স্কুলের ক্ষেত্রে যদি সরকারের অনুমোদন থাকে, তবেই আবেদনকারীরা ৩ হাজার টাকা করে পাবেন, অন্যথায় নয়।”
এর পাশাপাশি কড়া বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী যোগ করেন, “যে সমস্ত স্কুলে ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়া হয় বা ভারত-বিরোধী কথা শেখানো হয়, সেখানকার পড়ুয়াদের অভিভাবকরা এই সুবিধা পাবেন না। কারণ ওই পড়াশোনা মূল ধারার শিক্ষার মধ্যে পড়ে না।”
কড়া নজরদারির কারণ: ‘আগের সরকারের দুর্নীতি’
ফর্মে এত নিখুঁত তথ্য চাওয়ার কারণও ব্যাখ্যা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। পূর্বতন সরকারের দিকে আঙুল তুলে তিনি বলেন, “আগের সরকারের এই ধরনের যে প্রকল্প ছিল, তাতে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, মুর্শিদাবাদেই সাড়ে ৪ হাজারের বেশি পুরুষ এই ধরনের প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছিলেন। সেই কারণেই আমরা এবার একটু সতর্ক হয়ে, যাচাই করে উপভোক্তা বাছাই করছি। ইতিমধ্যেই ১ কোটিরও বেশি আবেদনপত্র জমা পড়েছে।”
বাদ পড়বেন কোভিড টিকা না নেওয়া ব্যক্তিরাও
স্কুলের পাশাপাশি আরও একটি বিষয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছে সরকার। মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, করোনা অতিমারির সময়ে যাঁরা সরকারি নিয়ম মেনে কোভিড টিকা নেননি, তাঁরাও এই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের ভাতা থেকে বঞ্চিত হবেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ফর্মে জমির পরিমাণ ও অন্যান্য পারিবারিক তথ্য নেওয়ার উদ্দেশ্যই হলো প্রকৃত অভাবী ও নিয়ম মেনে চলা নাগরিকদের কাছে এই সরকারি সাহায্য পৌঁছে দেওয়া। মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার পর একদিকে যেমন বহু মানুষের বিভ্রান্তি দূর হলো, তেমনই নিয়মের বেড়াজালে কারা বাদ পড়তে চলেছেন তাও স্পষ্ট হয়ে গেল।
