আজকের দিনেবাংলার আয়না

প্রশিক্ষণ শিবিরে মুখ্যমন্ত্রীর ভিডিও! প্রতিবাদ করায় ভোটকর্মীকে ‘বেধড়ক মার’

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,রানাঘাট: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই অশান্তি শুরু হলো নদিয়ায়। ভোটকর্মীদের প্রশিক্ষণ শিবিরে খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রচারের ভিডিও দেখানোকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল রানাঘাট। প্রতিবাদ করায় এক ভোটকর্মীকে বিডিও অফিসের কর্মীদের হাতে মার খেতে হয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে হয় মহকুমা শাসককে ।

শুক্রবার রানাঘাট দেবনাথ স্কুলে ভোটকর্মীদের একটি প্রশিক্ষণ শিবিরের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে উপস্থিত ছিলেন সরকারি কর্মী সৈকত দাস। তাঁর অভিযোগ, প্রশিক্ষণ চলাকালীন একটি জায়ান্ট স্ক্রিনে হঠাৎই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক প্রচারের ভিডিও চালানো শুরু হয়। সরকারি বা নির্বাচনী প্রশিক্ষণে কোনো নির্দিষ্ট দলের বা নেত্রীর প্রচার কেন হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রতিবাদ জানান সৈকতবাবু। তাঁর সমর্থনে এগিয়ে আসেন আরও কয়েকজন ভোটকর্মী। অভিযোগ, প্রতিবাদ করতেই স্থানীয় বিডিও অফিসের কিছু কর্মচারী সৈকত দাসের ওপর চড়াও হন। তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয় এবং এমনকি খুনের হুমকিও দেওয়া হয় বলে দাবি আক্রান্ত কর্মীর।আক্রান্ত ভোটকর্মী সৈকত দাসের দাবি, মারধরের বিষয়টি তিনি তৎক্ষণাৎ বিডিও-কে জানালেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। উল্টে পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে এসডিও ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। ক্ষুব্ধ ভোটকর্মীরা জানিয়েছেন, এই ঘটনার বিচার চেয়ে তাঁরা সরাসরি নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করবেন।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। রানাঘাটের বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকার সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন যে, স্থানীয় বিডিও তৃণমূলের ক্যাডারের মতো কাজ করছেন। নির্বাচনের কাজে স্বচ্ছতা বজায় রাখা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীরা। অন্যদিকে, বিডিও অফিস বা শাসক দলের পক্ষ থেকে এই মারধরের অভিযোগ নিয়ে এখনও কোনো স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *