জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় কেন্দ্রের বড় পদক্ষেপ: লাইসেন্স ছাড়াই মিলবে কেরোসিন
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,নয়াদিল্লি: ইরান-আমেরিকা সংঘাতের আবহে বিশ্বজুড়ে ঘনিয়ে আসা জ্বালানি সংকটের আঁচ থেকে দেশবাসীকে বাঁচাতে বড়সড় সিদ্ধান্ত নিল মোদী সরকার। সাধারণ মানুষের হেঁশেল সচল রাখতে এবং আলোর অভাব দূর করতে কেরোসিন সরবরাহের নিয়মে বড়সড় ছাড় ঘোষণা করল কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক। রবিবার একটি গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে জানানো হয়েছে, আগামী ৬০ দিন পর্যন্ত বিশেষ ব্যবস্থায় মিলবে এই জ্বালানি।
বিশ্ববাজারে অস্থিরতার জেরে যাতে দেশে কেরোসিনের ঘাটতি না হয়, তার জন্য সাময়িকভাবে পেট্রোলিয়াম সুরক্ষা ও লাইসেন্সিং বিধিতে শিথিলতা আনা হয়েছে। কেন্দ্রের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, পিডিএস ব্যবস্থার মাধ্যমে কেরোসিন সরবরাহের জন্য ডিলার বা এজেন্টদের আলাদা করে ‘Form 18’ লাইসেন্স নিতে হবে না।দেশের ২১টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পাবলিক সেক্টর অয়েল কোম্পানিগুলি তাদের রিটেল চ্যানেলের মাধ্যমে কেরোসিন বণ্টন করতে পারবে। প্রতি জেলায় সর্বোচ্চ দুটি পাম্পে কেরোসিন মজুত ও বিক্রির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। কেরোসিন বহনকারী ট্যাঙ্কার চলাচলের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত লাইসেন্সের প্রয়োজন পড়বে না।
সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে নিয়ম শিথিল করা হলেও অপব্যবহার রুখতে কড়া নির্দেশিকা জারি করেছে কেন্দ্র। সংগৃহীত কেরোসিন শুধুমাত্র রান্না এবং আলো জ্বালানোর কাজে ব্যবহার করা যাবে। প্রতিটি রিটেল স্টেশনে গৃহস্থের ব্যবহারের জন্য সর্বাধিক ২৫০০ লিটার কেরোসিন সংগ্রহ করে রাখা যাবে। এই বিশেষ ছাড় আপাতত আগামী ৬০ দিনের জন্য কার্যকর থাকবে। “বিশেষ পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকার ১৯৩৪ ও ২০০২ সালের পেট্রোলিয়াম অ্যাক্টের অধীনে সুরক্ষা ও লাইসেন্সের নিয়মে ছাড় দিতে পারে। বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই এই জনহিতকর সিদ্ধান্ত।” — পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক।অয়েল মার্কেটিং সংস্থাগুলিকে কড়াভাবে এই নির্দেশিকা মেনে চলতে বলা হয়েছে। কেন্দ্রের এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের ফলে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলি জ্বালানি সংকটের দুশ্চিন্তা থেকে অনেকটাই রেহাই পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
